প্রয়াত কিম জং ইল

আশি ও নব্বইয়ের দশকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতার আইকন হিসেবে ফিদেল কাস্ত্রো, মুয়াম্মর গদ্দাফির সঙ্গে একই সারিতে উচ্চারিত হত তাঁর নাম। কিন্তু পিয়ং ইয়ং-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক চিন উদার অর্থনীতির স্রোতে সামিল হওয়ার পর কিছুটা আড়ালে চলে গিয়েছিলেন তিনি।

Updated: Dec 19, 2011, 11:22 AM IST

আশি ও নব্বইয়ের দশকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতার আইকন হিসেবে ফিদেল কাস্ত্রো, মুয়াম্মর গদ্দাফির সঙ্গে একই সারিতে উচ্চারিত হত তাঁর নাম। কিন্তু পিয়ং ইয়ং-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক চিন উদার অর্থনীতির স্রোতে সামিল হওয়ার পর কিছুটা আড়ালে চলে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ধরেছিল কিছু অবাঞ্ছিত বিতর্ক।
সেই সব সঙ্গে নিয়েই `ইতিহাস` হয়ে গেলেন উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট রাষ্ট্রনায়ক কিম জং ইল। সোমবার সরকারি ভাবে তাঁর প্রয়াণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কিমের উত্তরসূরী হিসেবে তাঁর ছেলে কিম জং উনকে নির্বাচিত করছে উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি।
সোমবার দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়, গত শনিবার তিনি এক ট্রেন সফরের সময় মারা গিয়েছেন ইল। ৬৯ বছর বয়সী এই নেতা বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। কালো পোশাক পরিহিত উপস্থাপক অশ্রু-সজল চোখে জানান, দেশকে নেতৃত্ব দিতে মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ নেওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে রাষ্ট্রনেতার। এর আগে ২০০৮ সালে একবার স্ট্রোক হয়েছিল কিম জং ইলের। ওই সময় থেকেই ইল তার তৃতীয় ছেলে কিম জং উনের হাতে ধীরে ধীরে ক্ষমতা ছাড়তে শুরু করেছিলেন।

১৯৯৪ সালে নিজের বাবা, উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির কিংবদন্তী সর্বাধিনায়ক `কিম টু সাং`-এর মৃত্যুর পর রাষ্ট্র ও দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আসীন হন কিম জং ইল। দলের অন্দরমহলে `কিম জং টু` হিসেবে সমধিক খ্যাত ছিলেন তিনি। বাবার মতোই উত্তর কোরিয়ার জনগণকে `পশ্চিমি ভোগবাদী সংস্কৃতি`র আঁচ থেকে আড়ালে রাখতে বরাবরই সচেষ্ট ছিলেন তিনি। এমনকী দক্ষিণ কোরিয়ার পুনঃপুনঃ আবেদন সত্বেও `থার্টি এইট প্যারালাল`-এর ওপারে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তীব্র অনীহা ছিল কিমের।
এই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রেণর প্রভাব পড়েছিল পিয়ং ইয়ং-এর কূটনীতিতেও। বন্ধুরাষ্ট্র চিন বাজার অর্থনীতিতে গা ভাসালেও সেই পথ গ্রহণ করেননি কিম। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ও মার্কিন মিডিয়ার নিরন্তর নেতিবাচক প্রচারের কারণে এই একুশ শতকেও তিনি পরিণত হয়েছিলেন এক ‘রহস্যময়’ রাষ্ট্রনায়কে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী দেশগুলোর দৃষ্টিতে একজন `স্বৈরশাসক` হিসেবে পরিচিতি পেলেও দেশবাসীর কাছে আমৃত্যু বিপুল জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছিলেন কিম। শেষ বিচারে সেটাই বোধহয় তাঁর ক্ষমতায় টিকে থাকার রহস্য।