`মালালা দিবস`পালিত, উঠল মালালাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার আবেদন

Update: November 10, 2012 11:12 IST

আজ, শনিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হল`মালালা দিবস`। আজ থেকে ঠিক একমাস আগে তালিবানি বন্দুকের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত

হয়েছিল ১৫ বছরের মালালার নরম শরীর। প্রথমে তালিবানি ফতোয়ার বিরুদ্ধে লড়াই। তারপর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা।

কষা। দুই অসম যুদ্ধেই বিজয়ী এই পাকিস্তানি কন্যা। তার লড়াইকে স্বীকৃতি দিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সচিব বান কে মুন

আজকের দিনটাকে ঘোষণা করেছিলেন ` মালালা দিবস` রূপে। মালালার নামে সম্মানিত হল আসলে এই দিনটাই। আর এদিনই মালালাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিতে প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গোটা বিশ্বের প্রায় পঞ্চাশ হাজার নাগরিক।
তালিবানি মৌলবাদীদের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেনি এই পাকিস্তানি কিশোরী। সব ফতোয়াকে অগ্রাহ্য করে পড়াশোনা করতে চেয়েছিল। ২০০৯-এ তার বাসভূমি সোয়াট উপত্যকা দখল করে তালিবানিরা সেখানে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পিছিয়ে গিয়েছিল অনেকেই। আতঙ্কে অনেকেই বন্ধ করেছিল শিক্ষার আলোর সব কটা দরজা। সব কটা খিড়কি। কিন্তু মালালাতো এত সহজে নিজের অধিকার থেকে সরে আসেনি। ওই বছরেই বেনামে প্রকাশিত হয় মালালার একটি ব্লগ। তার ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পায় তার পড়াশোনার করার ইচ্ছা। তালিবানি ফতোয়ার বিরুদ্ধে এক কিশোরীর ক্ষোভ ভাষা পায়। প্রকাশ পায় তার সোচ্চার, এতদিনকার নিষিদ্ধ অনুচ্চারিত প্রতিবাদ। প্রকাশ পায় কীভাবে সোয়াটে মেয়েদের শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে তালিবানি শাসন। সারা বিশ্ব সামিল হয় মালালার প্রতিবাদে। কুর্নিশ জানায় তার প্রতিবাদকে।

মালালার সঙ্গে প্রথমবারের জন্য সরকারি ভাবে তালিবানি বিরোধিতায় সামিল হয় গোটা পাকিস্তান। সাময়িক পিছু হটে তালিবানরা। স্কুলে যাওয়া শুরু করে মালালা আর তার বন্ধুরা। কিন্তু চুপ করে থাকলেও আসলে থেমে থাকেনি তালিবানরা। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার `শাস্তি` স্বরূপ বুলেটে ঝাঁঝরা করে দেয় মালালাকে। কিন্তু তাতেও থামিয়ে রাখতে পারেনি মালালাকে। মালালা কিন্তু বেঁচে আছে। শুধু তাই নয় বাঁচিয়ে দিয়েছে আরও অনেকের মরতে বসা স্বপ্নকে। জন্ম হয়েছে আরও কত মালালার। পৃথিবীতো সঙ্গে ছিলই। এখন তার সঙ্গে তার দেশ। মালালার জন্য, মালালার সঙ্গে একসঙ্গে বহুযুগ পর প্রতিবাদে সোচ্চার গোটা পাকিস্তান।

আজ সেই মালালাকেই বিশ্বের উপহার গোটা একটা দিন। তার লড়াইয়ের স্বীকৃতি। বান কি মুন নিজে জানিয়েছেন ` সারা বিশ্বের নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে মালালা নিদর্শন, অনুপ্রেরণা। মালালা বুঝিয়ে দিয়েছে শিক্ষা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। নারী পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষা সবার অধিকার।``








Post Your Comment

Total Comments:1

BRAVEST GIRL OF THE WORLD AT PRESENT, SHE SHOULD BE PROPERLY REWARDED BY UNICEF & NOBEL COMMITTEE

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।