মৃত্যুর হাতছানি এড়িয়ে স্থিতিশীল মালালা

Update: October 11, 2012 10:44 IST

তালিবানি হামলায় আহত পাক কিশোরী মালালা ইউসুফজাইয়ের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। আপাতত পেশোয়ারে একটি হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন মালালা। তবে চিকিত্‍সকরা মনে করছেন, যেকোনও মুহুর্তে তাঁকে দেশের বাইরে চিকিত্‍সার জন্য নিয়ে যেতে হতে পারে। এজন্য পেশোয়ার বিমানবন্দরে আধুনিক চিকিত্‍সা-সরঞ্জামে সমৃদ্ধ একটি বিমান তৈরি রাখা হয়েছে। মালালার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। শুধু পাকিস্তানে নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তে প্রার্থনা চলছে মালালার জীবনের জন্য। তালিবানি ফতোয়া উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার, শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নেওয়ার মাশুল দিতে হয়েছে চোদ্দো বছরের এই কিশোরীকে। জঙ্গিদের গুলিতে গুরুতর জখম মালালা এখন পেশোয়ারের হাসপাতালে ভর্তি। অপারেশনের পর তাঁর শরীর থেকে একটি বুলেট বের করেছেন চিকিত্‍সকরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। তবে এখনও জ্ঞান ফেরেনি।  
 

বুধবার বিভিন্ন স্কুলে মালালার জন্য বিশেষ প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়। পাকিস্তানের প্রায় সবকটি সংবাদপত্রের প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছিল গুলিবিদ্ধ মালালার ছবি। এই হামলার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা দেশ।     
 
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সমস্ত রাজনৈতিক দল একসুরে এই ঘটনার কড়া নিন্দা করেছে। মালালার জন্য পাক সংসদে প্রার্থনা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই বর্বরোচিত হামলার নিন্দা করা হয়েছে।   মালালা ইউসুফজাইয়ের বিশ্বের দরবারে প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল দুহাজার নয়ে। তালিবানি শাসনে সোয়াত প্রদেশের মানুষের জীবন-সংগ্রাম নিয়ে তাঁর লেখা সাড়া ফেলেছিল সর্বত্র। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১। সাহসিকতার জন্য জাতীয় পুরস্কারেও সম্মানিত করা হয় তাকে। চোদ্দো বছর বয়সেই যে মেয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, অশিক্ষার বিরুদ্ধে, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূর্ত প্রতীক, সে যাতে নিজের জীবনযুদ্ধে কোনওমতেই হেরে না যায়, সেই প্রার্থনায় সামিল গোটা বিশ্ব।          
 
  

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।