ইয়াহুর ভিডিও চ্যাটে লুকিয়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা হানা, বেআব্রু বহু ইউজারের গোপন মুহূর্ত, বিশ্ব জুড়ে সমালোচনার মুখে দুই দেশ

ইয়াহুর ভিডিও চ্যাটের অংশ তুলে রেখেছে মার্কিন ও ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার। গার্ডিয়ানের দাবি, ২০০৮ সালে অপটিক নার্ভ নামে ওই অপারেশনের শুরু। মাস ছয়েকের মধ্যেই প্রায় ১৮ লক্ষ ইয়াহু গ্রাহকের ভিডিও চ্যাটের ক্লিপিংস তুলে রাখা হয়েছে। গার্ডিয়ানের দাবি, এই অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য তাঁরা পেয়েছে প্রাক্তন এক মার্কিন গোয়েন্দার থেকে। ২০১১ সালে শেষ দিক। জনপ্রিয়তার কারণে সে সময় ইয়াহু ভিডিও চ্যাটের সদস্য সংখ্যা বাড়তে বাড়তে সাড়ে ৭ কোটিতে। দেদার চলছে ভিডিও চ্যাট।

Updated: Feb 28, 2014, 02:58 PM IST

ইয়াহুর ভিডিও চ্যাটের অংশ তুলে রেখেছে মার্কিন ও ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা। এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার। গার্ডিয়ানের দাবি, ২০০৮ সালে অপটিক নার্ভ নামে ওই অপারেশনের শুরু। মাস ছয়েকের মধ্যেই প্রায় ১৮ লক্ষ ইয়াহু গ্রাহকের ভিডিও চ্যাটের ক্লিপিংস তুলে রাখা হয়েছে। গার্ডিয়ানের দাবি, এই অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য তাঁরা পেয়েছে প্রাক্তন এক মার্কিন গোয়েন্দার থেকে। ২০১১ সালে শেষ দিক। জনপ্রিয়তার কারণে সে সময় ইয়াহু ভিডিও চ্যাটের সদস্য সংখ্যা বাড়তে বাড়তে সাড়ে ৭ কোটিতে। দেদার চলছে ভিডিও চ্যাট।

তার বছর তিনেক আগে, অর্থাৎ ২০০৮ থেকেই অবশ্য গ্রাহকদের অজান্তে চলছে ইয়াহুর সমস্ত ভিডিও চ্যাটের ক্লিপিংস সংগ্রহ। সৌজন্যে ব্রিটিশ গুপ্তচর সংস্থা জিসিএইচকিউ। মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে অপারেশন অপটিক নার্ভ।

এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার। প্রাক্তন মার্কিন গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেনই নাকি গার্ডিয়ান পত্রিকার হাতে তুলে দিয়েছেন এমনই গোপন সব নথি।

কিন্তু কেন ইয়াহুর ভিডিও চ্যাটে গোয়েন্দা হানা? গার্ডিয়ান পত্রিকার দাবি, ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে জঙ্গিরা কী কার্যকলাপ চালাচ্ছে, তা নজরে রাখতেই অপটিক নার্ভের জন্ম। অপটিক নার্ভ আসলে ভিডিও চ্যাট সংগ্রহ করার ডাটাবেস। সাইবার ভিডিও চ্যাট ডাউনলোড করতে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, তার গতি এতটাই যে এক লহমায় প্রতিটি চ্যাটই ডাউনলোড করার ক্ষমতা রয়েছে সফটওয়্যারটির।

গার্ডিয়ান পত্রিকার দাবি, জঙ্গি কার্যকলাপের ওপর নজরদারি করতে গিয়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দারা অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের ভিডিও চ্যাট সংগ্রহ করে বসে আছে। ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সংগৃহীত ভিডিও চ্যাটে উঠে এসেছে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি থেকে অনিচ্ছাকৃত যৌনতা। এমনকি মার্কিন ও ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের বিশ্লেষকরা সংগ্রহ হওয়া ফুটেজগুলি বিশ্লেষণ করে নিজেদের পর্যবেক্ষণও দিয়ে দিয়েছেন। তাঁদের মতে, বেশিরভাগই অন্য মানুষকে শরীরের গোপন অঙ্গ দেখাতেই ওয়েবক্যাম চ্যাট ব্যবহার করেন।

ইন্টারনেট গ্রাহকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের এমন নজিরবিহীন খবর সামনে আসার পর নড়ে চড়ে বসেছে ইয়াহু সহ ভিডিও চ্যাটের পরিষেবা দেওয়া বিশ্বের তাবড় তাবড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি। ঘটনার নিন্দা করেছেন এঁরা সকলেই। খবর দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত ইন্টারনেট গ্রাহকরাও। এরই মধ্যে পিঠ বাঁচাতে মরিয়া আমেরিকা। এমন নজরদারির পিছনে তাঁদের ভূমিকার কথা অস্বীকার করেছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।