শপথ অনুষ্ঠানে মনমোহনকে ডেকে বার্তা শরিফের

পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফের প্রত্যাবর্তন কি ভারত-পাক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সুচনা করবে? জয়ের পরই শরিফ জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী তিনি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শরিফ। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও নওয়াজ শরিফকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলে ভারত-পাক সম্পর্কে উন্নতিরই আশা করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Updated: May 13, 2013, 09:55 PM IST

পাকিস্তানে নওয়াজ শরিফের প্রত্যাবর্তন কি ভারত-পাক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সুচনা করবে? জয়ের পরই শরিফ জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী তিনি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শরিফ। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও নওয়াজ শরিফকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলে ভারত-পাক সম্পর্কে উন্নতিরই আশা করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
তৃতীয়বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নওয়াজ শরিফ। ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার কথাই বলেছেন। শরিফ বলেছেন, ১৯৯৯ সালে লাহোর বাসযাত্রার সময় ভারত-পাক সম্পর্ক যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল, সেখান থেকে শুরু করতে চান তিনি। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নওয়াজ শরিফ। প্রাথমিকভাবে শরিফের এই অবস্থান ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
 
শরিফের জয়কে স্বাগত জানিয়ে তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। যদিও অনেকেই মনে করছেন, শরিফের ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নেওয়া উচিত নয়াদিল্লির। উনিশশো নিরানব্বইয়ে তত্‍কালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ীর সঙ্গে শরিফের বৈঠক এবং লাহোর বাসযাত্রার কিছুদিনের মধ্যেই কার্গিলে হামলা চালিয়েছিল পাক সেনাবাহিনী। যদিও কার্গিল সম্পর্কে তিনি অন্ধকারে ছিলেন বলেই দাবি শরিফের। তাঁর আমলেই চাঘাইয়ে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় ইসলামাবাদ। ফলে শরিফকে ঘিরে এদেশের রাজনৈতিক মহলে এখনও কিছু সংশয় আছে। পাশাপাশি সরকারকে সেনার প্রভাবমুক্ত রাখার ব্যাপারে নওয়াজ শরিফ সওয়াল করলেও, সেব্যাপারে বাস্তবে তিনি কতটা সফল হবেন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
  
কার্গিল কাণ্ডে দায় নির্ধারণ বা ছাব্বিশ এগারোর মুল চক্রীদের শাস্তির কথা বলেছেন শরিফ। তাঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিদেশনীতির পুনর্মূল্যায়ন চান শরিফ। যদিও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থ অক্ষুন্ন রেখেই নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে। সন্ত্রাসবাদ এবং বেহাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ তো আছেই। অন্যদিকে পাকিস্তানের মৌলবাদী সংগঠনগুলিকেও চটাতে পারবেন না শরিফ। নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে পাক সেনাবাহিনী এবং গুপ্তচর সংস্থাকেও। এই সব চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কতটা উন্নতি শরিফ করতে পারবেন তা সময়ই বলবে।