আগামী চারবছর সাদাবাড়ি ওবামারই

ওয়াশিংটনের সাদা বাড়িটা আরও চার বছরের জন্য তাঁর আর তার পরিবারের বাসভূমি হয়েই রইল। বারাক হুসেন ওবামা গতকালই পৃথীবির সবচাইতে শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে পুনঃনির্বাচিত হলেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এই ডেমোক্র্যাট পরাজিত করলেন নিকটতম প্রতিদন্ধী মিট রমনিকে। আগামী ৪ বছরের জন্য ওভাল অফিসের কুর্সির মালিক মোট ৩০৩ টি ইলেক্টোরিয়াল ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে রমনি পেয়েছেন ২০৬টি ইলেক্টোরিয়াল ভোট।

Updated: Nov 8, 2012, 09:55 AM IST

ওয়াশিংটনের সাদা বাড়িটা আরও চার বছরের জন্য তাঁর আর তার পরিবারের বাসভূমি হয়েই রইল। বারাক হুসেন ওবামা গতকালই পৃথিবীর 'সবচেয়ে শক্তিশালী' দেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে পুনঃনির্বাচিত হলেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এই ডেমোক্র্যাট পরাজিত করলেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রমনিকে। আগামী চার বছরের জন্য ওভাল অফিসের কুর্সির মালিক মোট ৩০৩ টি ইলেক্টোরিয়াল ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে রমনি পেয়েছেন ২০৬টি ইলেক্টোরিয়াল ভোট।
তবে চূড়ান্ত ফলে ব্যবধান যতটা স্পষ্ট, ততটা সহজ ছিল না ওবামার পুনর্নির্বাচন। পূর্ব উপকূলের প্রদেশগুলিতে গণনা শুরুর পর ইলেক্টরাল ভোটে বেশ খানিকটাই এগিয়ে ছিলেন রমনি। তারপর, ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে গণনা শুরু হলে লড়াইয়ে ফেরেন ওবামা। এরপর দীর্ঘক্ষণ হোয়াইট হাউসের দুই দাবিদারের মধ্যে সমানে সমানে টক্কর চলে। ক্যালিফোর্নিয়ার দখল ধরে রেখে রমনিকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দেন ওবামা। একসময় পেরিয়ে যান ম্যাজিক ফিগারও। ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটিগুলো ছাড়াও, সুইং স্টেটগুলিরও অধিকাংশতেই জয় পেয়েছেন ওবামা। আমেরিকার প্রথম আফ্রো-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জিতেছেন ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, ইলিনয়, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নিউ জার্সি, পেনসিলভ্যানিয়া, নিউ ইয়র্ক, উইসকনসিনের মতো প্রদেশগুলোতে। শেষ খবর পাওয়া অবধি এগিয়ে রয়েছেন ফ্লোরিডাতেও।
ওবামার জয়ে দেশ জুড়ে চলতে থাকা উৎসবের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট টুইট করেছেন "আরও চার বছর।" এর সঙ্গেই তিনি দেশবাসীকে ধন্যবাদও জানান।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হয়েও সৌজন্য প্রকাশে পিছপা হলেন না রিপাবলিকান মিট রমনি। ভোটের আগের পারস্পরিক তরজাকে দূরে সরিয়ে রেখে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট পদে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্ধী বারাক ওবামাকে অভিন্দন জানালেন তিনি। জানালেন, দেশের এই অস্থির অবস্থায় এখন সব পক্ষকেই সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
ভোটপ্রচারে তাঁর দিকে ছুটে এসেছিল অজস্র সমালোচনার তির। আর্থিক মন্দা থেকে কর্মসংস্থান, নানা ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছিল। লিবিয়া আক্রমণ কিংবা আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন, কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল তাঁর বিদেশনীতিকেও। দুহাজার আটে বিপুল ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসে আমুল পরিবর্তনের স্লোগান তুলেছিলেন ওবামা। এবারও বিপুল ভোটে জিতেছেন তিনি। কিন্তু এখনও অনেকটা পথ চলার বাকি। চতুর্দিকে আর্থিক মন্দার চোখ রাঙানি। কর্মহীনতায় ভুগছে গোটা মার্কিন মুলুক। আছে আরও বিবিধ সঙ্কট। লাদেনকে হত্যা করে মার্কিনিদের ৯/১১ ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ লাগাতে পেরেছিলেন ওবামা। আগামী চার বছর কিন্তু কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ওবামার জন্য। দেশের মানুষ তাঁর উপর ভরসা রেখেছেন। সেই ভরসার কতখানি মর্যাদা তিনি দিতে পারবেন তার হদিশ কিন্তু ভবিষ্যতের চারবছরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
সাফল্য আর ব্যর্থতা। ঝুলিতে দুইই ছিল। তাই নিয়েই দ্বিতীয়বারের জন্য ভোটযুদ্ধে নেমেছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বারাক ওবামা। বুধবার তিনি দেখিয়ে দিলেন, যে হ্যাঁ, তিনিই পারেন! প্রাক্ নির্বাচনী সমীক্ষায় উঠে এসেছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত। কিন্তু সেই পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণিত করে মার্কিন নাগরিকরা কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের ওপরেই আস্থা রাখলেন। ফলাফল থেকে পরিষ্কার, সঙ্কট জর্জরিত আমেরিকাতে এই মুহূর্তে ভরসা তিনিই।