মরসুমেও মন্দা কাটল না অলিম্পিক কারি ক্যাপিটলের

Update: August 4, 2012 21:47 IST

লন্ডন অলিম্পিকের কারি ক্যাপিটল। স্বভাবতই, অলিম্পিক মরসুমে বিক্রি বাড়ার আশায় সেজে উঠেছিল লন্ডনে বাঙালি খাবারের আস্তানা ব্রিক লেন। কিন্তু অলিম্পিক শুরু হলেও, দেখা নেই বাড়তি নতুন ক্রেতার। লন্ডন অলিম্পিকের কারি ক্যাপিটালের এই করুণ ছবিটাই ব্রিটেনের আর্থিক সঙ্কটের ছবিটা আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

একঝলকে মনে হতে পারে বাংলামুলুকে চলে এসেছেন। চারদিকে সার দিয়ে থাকা এশীয় দোকানের অনেকগুলিই বাঙালি খাবারের। রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে দেখাও হয়ে যেতে পারে অনেক বাঙালির সঙ্গে। গত কয়েক দশকে ইউরোপে ইন্ডিয়ান কারির কদর বাড়ানোর পিছনে রয়েছে লন্ডনের এই ব্রিক লেন। অলিম্পিকে ব্রিক লেনকে কারি ক্যাপিটাল হিসেবে ঘোষণা করায় লাভের আশায় ছিলেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেভাবে বিক্রি বাড়েনি ব্রিক লেনে। ব্যবসায়ীদের মতে অলিম্পিকের লন্ডনে খদ্দেরদের ভিড় উল্টে কমেছে।

অলিম্পিকের মরশুমে এই ভাবে বিক্রি কমায় প্রশাসনকেই দায়ি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই সার, বাস্তবে কারি ক্যাপিটালের কোনও প্রচারই হয়নি।

ব্রিক লেনের কারি ক্যাপিটালের করুণ ছবিটাই আসলে ব্রিটেনের আর্থিক সঙ্কটের ছবিটা আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। অনেক লন্ডনবাসীর মতোই তাই আর্থিক ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ ব্রিক লেনের এশীয় ব্যবসায়ীরা।

চলতি এই আর্থিক সঙ্কট কাটাতে অলিম্পিককেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে গ্রেট ব্রিটেন। যদিও অলিম্পিকের বিপুল খরচ উল্টে সঙ্কট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। অলিম্পিকের লন্ডনে ব্রিক লেনের ব্যবসার করুণ ছবিটাও কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।