জোড়া সঙ্কটে দিশেহারা পাকিস্তান

Update: January 16, 2013 12:20 IST

দুর্নীতি মামলায় পাক প্রধানমন্ত্রী রাজা পরভেজ আশরফকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আজ প্রধানমন্ত্রীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। অন্যদিকে সুফি নেতা মহম্মদ তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বে দশ লক্ষ মানুষের  মিছিলে মঙ্গলবার স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল ইসলামাবাদ। সংসদ ও প্রাদেশিক আইনসভা ভেঙে দেওয়ার দাবিতে কাদরির এই মিছিলকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পাক রাজধানী।

ইসলামাবাদের জিন্না এভিনিউ। পাক রাজধানীর এই অভিজাত সরণিতে তখন জনসমুদ্র। সুফি নেতা মহম্মদ তাহিরুল কাদরির নেতৃত্বে দশ লক্ষ মানুষ পথে নেমেছেন। তাঁদের দাবি, সরকারকে সরতে হবে। ভেঙে দিতে হবে পাক সংসদ এবং প্রাদেশিক আইনসভা। কানাডা প্রবাসী তাহিরুল কাদরি নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে ইসলামাবাদে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন।

আইনসভা ভেঙে দেওয়ার জন্য সরকারকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছিলেন কাদরি। ব্যারিকেড ভেঙে জমায়েত ইসলামাবাদের সুরক্ষিত রেড জোনের দিকে এগোতেই বিপত্তি। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে শুরু হয় আন্দোলনকারীদের খণ্ডযুদ্ধ। বিশাল মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়। শূন্যে গুলি ছোঁড়ে পুলিস।

আচমকা বদলে গেল অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। জানা গেল, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা পরভেজ আশরফকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ইউসুফ রাজা গিলানির পদত্যাগের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন রাজা পরভেজ আশরফ। পাকিস্তানের জল এবং বিদ্যুত মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্পের বরাত বন্টনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। পাকিস্তানের দূর্নীতিদমন সংস্থা ন্যাব এই মামলায় রাজা পরভেজ আশরফসহ তেত্রিশজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। মঙ্গলবার পাক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইফতিকার চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ, প্রধানমন্ত্রীসহ ষোলোজনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার পাক প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এর ফলে কয়েকমাসের মধ্যে নতুন করে সাংবিধানিক সঙ্কটে পাকিস্তান। এর মাঝে পাক সরকারের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছেন তাহিরুল কাদরি। কাদরির মূল দাবি দুর্নীতিগ্রস্ত বর্তমান সরকারকে সরিয়ে সেনার তত্ত্বাবধানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হোক। ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ এই সুফি নেতার  আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। অন্যদিকে পাক রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কাদরিকে সামনে রেখে আসলে  আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে পাক সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে সহযোগী দলগুলিকে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন পাক প্রেসিডেন্ট জরদারি। অন্যদিকে সংসদ ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত অবস্থানে অনড় কাদরির সমর্থকরা। জোড়া সঙ্কটে টালমাটাল পরিস্থিতি পাকিস্তানের।

Post Your Comment

Total Comments:1

Pakistan er kharap hole amader tate ki?? r pakistan er kharap hole Bharat er jonno kono rokom bhalo hole por,,ami sob samay chaaibo j Pakistan er kharap hok..r pakistan er history r present toh r ami bollam naa,..amar aye kotha shunte kharap lagbe,,but atai haowa uchit......amra 4bar juddho korechi pakistan er sathe.....r noi aro akbar korbo...but ata ki kao vebe dekheche amra kano bar bar pakistan er sathe juddho kori?,,,ba pakistan o kano bar bar amader sathe juddho kore??...amader jammu Border a pakistani gulo khub baje bhabe amader jawan k hotta korche din er por din....tar por o ki amra pakistan er sathe haat melabo?,,,shanti chukti bojai rakhbo?......sotti karer akjon Bharatio nagorik hole, apni vebe dekhun ki kora uchit......Peace or War with pakistan!...r kichu bollam naa

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।