রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নবাদীরা বিমানে মিসাইল হানার দায় স্বীকার করল, উদ্ধার ১৮১টি মৃতদেহ, বিমানটির ব্ল্যাকবক্স

ইউক্রেনের রাশিয়া পন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা মালয়েশিয়ার MH 17 বিমানটির উপর মিসাইল হামলার দায় স্বীকার করে নিল। সিকিউরিটি সার্ভিস অফ ইউক্রেন আজ এমনটাই দাবি করল। অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত ১৮১ টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিমানটির ব্ল্যাকবক্স।

Updated: Jul 18, 2014, 07:52 PM IST
রাশিয়াপন্থী বিচ্ছিন্নবাদীরা বিমানে মিসাইল হানার দায় স্বীকার করল, উদ্ধার ১৮১টি মৃতদেহ, বিমানটির ব্ল্যাকবক্স

ইউক্রেন: ইউক্রেনের রাশিয়া পন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা মালয়েশিয়ার MH 17 বিমানটির উপর মিসাইল হামলার দায় স্বীকার করে নিল। সিকিউরিটি সার্ভিস অফ ইউক্রেন আজ এমনটাই দাবি করল। অন্যদিকে, এখনও পর্যন্ত ১৮১ টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিমানটির ব্ল্যাকবক্স।

ইউক্রেনে বিমান ধ্বংসকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠল আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন। বিমান ধ্বংস নিয়ে সরাসরি রাশিয়াকে দুষেছে ইউক্রেন। মস্কোর তরফেও কিয়েভের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। রাশিয়ার ওপর পরোক্ষে চাপ সৃষ্টি করছে পশ্চিমী দেশগুলিও। দাবি উঠছে আন্তর্জাতিক তদন্তের।

রুশ সীমান্তে মালয়েশিয়ার বিমান ধ্বংসের কারণ নিয়ে কারো মনে কোনও সংশয় নেই। মিসাইল হানায় মাঝ আকাশেই যে বিমানটিকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে,তা নিয়ে নিশ্চিত আন্তর্জাতিক দুনিয়া। প্রশ্ন উঠছে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য দায়ী কে? এ জন্য সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেছে ইউক্রেন। তাদের অভিযোগ, রাশিয়ার মদতেই বুক মিসাইল ব্যবহার করে বিমানটিকে উড়িয়ে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এ নিয়ে হেগ-এর আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে রাশিয়ার বিচারের দাবিও জানিয়েছে কিয়েভ। অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে রাশিয়া। পুতিনের পাল্টা অভিযোগ, ইউক্রেন সরকার যদি দেশের পূর্বপ্রান্তে দমনপীড়ন নীতি না চালাতো, তাহলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।

বিমান ধ্বংসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেদারল্যান্ডস। তাদের দেড়শোরও বেশি নাগরিক বিমানে সওয়ার ছিলেন। মারা গেছেন অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি, বেলজিয়াম, ফিলিপিন্স, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং রোমানিয়ার নাগরিকও। কিন্তু, কোনও দেশই এখনও সরাসরি রাশিয়ার দিকে আঙুল তোলেনি। তবে পরোক্ষে মস্কোর ওপর চাপসৃষ্টি চলছে। বিমান ধ্বংস নিয়ে ইতিমধ্যেই বৈঠক করেছেন ব্রিটেন ও জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে। বিমান ধ্বংসের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি উঠছে সবমহলেই। সেজন্য ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌছনো জরুরি। কিন্তু, বিমানটি যেখানে পড়ে রয়েছে তা রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে। উদ্ধারকাজে কোনওরকম বাধা দেওয়া হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।  বিমানের দুটি ব্ল্যাক বক্স এবং ভয়েস ডেটা রেকর্ডার পাওয়া গেছে। তবে ডয়েস্কের গ্রামের লোকেরা ইতিমধ্যেই স্মারক হিসেবে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ বাড়ি নিয়ে যেতে শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানের টুকরোগুলি না পাওয়া গেলে কোনওদিনই প্রমাণ করা যাবে না তা কীভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। অভিশপ্ত বিমানেই ছিলেন বিশ্বের বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা এইডস বিশেষজ্ঞ। মেলবোর্নে এইডস সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তাই ধ্বংসের কারণ যাই হোক, এই ঘটনা বিশ্বের বুকে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করল তা নিয়ে সংশয় নেই।