স্যান্ডির রেশ কাটিয়ে এবার লড়াই ঘুরে দাঁড়ানোর

Last Updated: Thursday, November 1, 2012 - 19:48

বিপর্যয়ের রেশ কাটিয়ে এবার স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে ফেরার লড়াই। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত আমেরিকায় সেই চেষ্টাই চলছে যুদ্ধকালীন তত্‍পরতায়। নিউ ইর্য়ক থেকে নিউ জার্সি, ডেলাওয়ার থেকে মেরিল্যান্ড সব জায়গায় একই ছবি। কোথাও চলছে উদ্ধারকাজ, কোথাও চলছে রাস্তা সারাই, জমা জল সরানোর কাজ। বিদ্যুত্‍ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিকের পথে। নিউ ইর্য়কের বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে উড়ান। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে যে সময় লাগবে, তা মানছেন সকলেই।
স্যান্ডির তাণ্ডবের রেশ কাটার আগেই সেই লড়াই শুরু করে দিয়েছেন মার্কিনিরা। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তাণ্ডবে চালিয়ে মার্কিন উপকূলে স্যান্ডি আছড়ে পড়ার আগেই বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা ছিল। কিন্তু তা যে এত ভয়াবহ আকার নেবে তা হয়তো অনেকই ভাবেননি। নিউ ইর্য়কের লোয়ার ম্যানহাটানের বহু অঞ্চলে এখনও চলছে জমা জল সরানোর কাজ। বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা ধ্বংস্তুপের মধ্যে থেকে জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। চলছে ধ্বংস্তুপ সরানোর কাজও। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের মতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেও এখনও সময় লাগবে।
স্যান্ডির দাপটে এখনও বন্ধ সাবওয়ে, রেল পরিষেবা। যান চলাচলও নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু নিউ ইর্য়কের বহু দফতরই খুলে গেছে। তাই কাজে যোগ দিতে নিউ ইর্য়কের ব্রুকলিন ব্রিজে দেখা গেছে পথচারীদের ভিড়। স্যান্ডির রেশ কাটিয়ে শুরু হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাজও। নিউ ইর্যকের ব্যস্ত চায়নাটাউন ও লিটল ইতালিও শুনশান। দোকানপাট, রেস্তোরা খুলে গেলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা আপাতত পর্যটকদের দেখা মেলা কঠিন। তবে জেএফকে বিমানবন্দরে শুরু হয়েছে বিমান চলাচল। অধিকাংশ অঞ্চলে বিদ্যুত্‍ পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে যুদ্ধকালীন তত্‍পরতায়।
তবে নিউ ইর্য়কের উপকণ্ঠে ব্রিজি পয়েন্ট এখন ধ্বংসস্তুপ। স্যান্ডির জেরে জলোচ্ছ্বাস এবং অগ্নিকাণ্ড, দুইয়ের জেরে বসতিটি প্রায় নিশ্চিহ্ন।
নিউ জার্সির মনোরম সৈকতেও এখনো ছড়িয়ে রয়েছে স্যান্ডির ক্ষতচিহ্ন। সৈকতে পার্শবর্তী শহরগুলির রাস্তাঘাট ধ্বংসস্তুপে ঢাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘুরে দেখছেন চারপাশের পরিস্থিতি।
ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। স্যান্ডির মত বিধ্বংসী সুপারস্টর্ম এর আগে কমই দেখেছে আমেরিকা। ক্ষয়ক্ষতির নিরিখেও স্যান্ডি আগের সব বিপর্যয়ের রেকর্ড ভেঙে দেবে বলে আশঙ্কা। প্রাথমিক অনুমান ক্ষতির অঙ্ক দেড় হাজার কোটি ডলার ছাপিয়ে যেতে পারে।



First Published: Thursday, November 1, 2012 - 19:48


comments powered by Disqus