ভোটদানের অধিকার পেলেন সৌদি আরবের মেয়েরা

Update: September 27, 2011 17:57 IST

ভোটদানের অধিকার পেলেন সৌদি আরবের মেয়েরা। সৌদি আরবের রাজা আবদুল্লা ঘোষণা করেন, এবার থেকে ভোটে দাঁড়ানো ও ভোট দানের অধিকার দেওয়া হল সৌদি মেয়েদের। আরব দুনিয়ায় একের পর এক দেশে রাজতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পর থেকেই সৌদি আরবের কঠোর শরিয়তি আইন সংস্কারের দাবি উঠছিল। সেই দাবি পূরণের ক্ষেত্রে সৌদি রাজার এই ঘোষণা অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

কঠোর শরিয়তি শাসনের নিগড়ে বাঁধা সৌদি আরবের সামাজিক রীতিনীতি। মেয়েদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার অনুমতি নেই সে দেশে। স্বামী বাবা বা পরিবারের পুরুষ কর্তার লিখিত অনুমতি ছাড়া উচ্চশিক্ষা নেওয়া, ভিনদেশে চাকরি করতে যাওয়া এমনকী চিকিত্সারও অনুমতি পান না সৌদি মেয়েরা। ভোটদানের অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন সৌদি মেয়েরা। এহেন সৌদি সমাজে এবার থেকে মেয়েরা শুধু ভোট দেওয়ার অধিকারই পেলেন না, সেই সঙ্গে ভোটে লড়ার অধিকারও অর্জন করলেন।
সৌদি আরবের রাজা আবদুল্লা বলেছেন, আমরা মেয়েদের সমাজের এক কোণায় ফেলে রাখার বিরোধী। অনেক আলোচনার পর আমরা মেয়েদের ভোটদানের অধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসন্ন পুরসভার ভোটেই সৌদি মেয়েরা ভোট দিতে ও সুরা কাউন্সিলে দাঁড়াতে পারবেন।
আরব দুনিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে একের পর এক দেশে স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহে বেশ কিছুদিন ধরেই আশঙ্কিত সৌদি রাজপরিবার। সৌদি জনতার বিক্ষোভ কমাতে বেশ কিছু দিন ধরেই কিছু সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মেয়েদের ভোটাধিকার দিয়ে সেই লক্ষ্যে অনেকটাই এগোতে পারল সৌদি রাজপরিবার।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।