হরতালের চতুর্থ দিনে মৌলবাদী হামলা অগ্রাহ্যের ডাক শাহবাগের

Update: March 7, 2013 11:52 IST

বিএনপি ও জামাতের ডাকা হরতালে সকাল থেকেই ফের সংঘর্ষে উত্তাল বাংলাদেশ। সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ রাজধানী ঢাকার শনির আখরা এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইসলামি ছাত্র শিবিরের সমর্থকরা। অন্যদিকে বিনপি এবং জামাতের ডাকা হরতাল বানচাল করতে প্রস্তুত শাহবাগ চত্বরও। হরতালের বিরুদ্ধে আজ সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে ফের জমায়েতের ডাক দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। 

ঢোলাইয়ের পাড় এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। যাত্রাবাড়ির বিবিরবাগিচা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও কয়েকটি গাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। কাওরানবাজারের আন্ডারপাসে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মীরপুরে দুটি যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। রাজধানীর সবুজবাগ এবং বাসাবো এলাকায় কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। অন্যদিকে, হরতালের মধ্যেও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। রাজধানী ঢাকা সমেত দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। পুলিসের পাশাপাশি পথে নামানো হয়েছে, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে। কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে বিরোধী দল বিএনপির সদর দফতর নয়াপল্টন এলাকায়। সরকারি বাস এবং রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। হরতালকে ব্যর্থ করতে কাজে বেরিয়েছেন সাধারণ মানুষও।  

আগামিকাল নারী জাগরণ সমাবেশ শাহবাগে। মঙ্গলবারই পূর্ণ হয়েছে শাহবাগ জমায়েতের এক মাস। শুধু ঢাকাতেই নয়, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে জেলায় জেলায়। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষ। দাবি আদায়ে চলমান গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও একমাস। এখনও পর্যন্ত শাহবাগেই সই করেছেন পাঁচ লক্ষেরও বেশি মানুষ।


 







Post Your Comment

Total Comments:1

বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জামাত শিবির মাইলের পর মাইল গাছ কেটে রাস্তার উপর ফেলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। দেশে কোটি কোটি মানুষ আছে। ঢাকার শাহবাগে কিছু মানুষ জড়ো হয়ে থাকলে তো হবে না। গ্রাম, উপজেলায়, ইউনিয়নে এরা মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। ওখানে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হলে উদ্ধার করার জন্য হেলিকপ্টার ছাড়া কেউ যেতে পারবে না। এখন প্রশ্ন হলো কয়টি জায়গায় হেলিকপ্টার পাঠানো সম্ভব। সরকারকে অনুরোধ করছি, দ্রুত ব্যবস্হা নিন। এই নোট আন্তৰ্জাতিক অঙ্গনে বহু জায়গায় পাঠনো হল।

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।