বোস্টন বিস্ফোরণের অভিযুক্তরা নির্দোষ, দাবি পরিবারের

Last Updated: Sunday, April 21, 2013 - 10:40

বোস্টন বিস্ফোরণে অভিযুক্ত দুই ভাই ট্যামারল্যান ও জোহকার নির্দোষ। দুই ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। এমনই দাবি করেছেন তাঁদের মা-বাবা। যদিও, ট্যামারল্যান ও জোহকারের কাকা বলেছেন, তাঁর দুই ভাইপো গোটা চেচেন জাতির মাথা হেঁট করে দিয়েছে। নিজের কৃতকর্মের জন্য জোহকারের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।    
ছাব্বিশ বছরের ট্যামারলেন জারনেভ ও তাঁর ভাই ১৯ বছরের জোহকার জারনেভ। দুজনেই বোস্টন বিস্ফোরণে অভিযুক্ত। পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় প্রাণ হারিয়েছেন ট্যামারল্যান। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন জোহকার।
জোহকারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
কিরঘিজস্তানের ছোট্টো শহর টকমকে বাস করত জারনেভ পরিবার। দুহাজার একে তারা চলে আসে রাশিয়ার ডাগস্ট্যানে। দক্ষিণ রাশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের এই ডাগস্টান শহরের পাশেই চেচনিয়া।
স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে চেচেনদের লড়াই খুব ছোট থেকেই প্রত্যক্ষ করেছিল ট্যামারল্যান ও জোহকার।
পরে, বাবা-মা-র সঙ্গে আমেরিকায় চলে আসেন তাঁরা। থাকতে শুরু করেন কেমব্রিজে। ২০১২তে জোহকার আমেরিকার নাগরিকত্ব পান।
তাঁর দাদা ট্যামারল্যান অবশ্য ছিলেন গ্রিন কার্ড হোল্ডার। দুজনেই আমেরিকায় পড়াশোনা করতেন। পরিচিতরা জানিয়েছেন বড় ভাইয়ের ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আর ছোট ভাই চাইতেন ডাক্তার হতে। পড়াশোনার পাশাপাশি বক্সিং নিয়েও সমান আগ্রহ ছিল ট্যামারলেনের। চেচনিয়া স্বাধীন না হলে মার্কিন বক্সিং টিমের সদস্য হিসাবে নাকি অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বোস্টন বিস্ফোরণের কয়েকদিন আগে দুই ভাইকে রেখে রাশিয়ার ডাগস্ট্যানে ফিরে যান তাঁদের মা-বাবা।
কিরঘিজস্তানের টকমক শহরের বাসিন্দারা যাঁরা একসময়ে জারনেভ পরিবারের প্রতিবেশী ছিলেন তাঁরাও এই ঘটনায় হতবাক। দুই ভাই যে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে, বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁরা।
ট্যামারল্যান ও জোহকারের কাকা আমেরিকার মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা। তিনি অবশ্য তাঁর ভাইপোদের নির্দোষ হিসাবে দেখছেন না।
স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ট্যামারল্যানের পোস্ট করা কিছু মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেছেন মার্কিন তদন্তকারীরা। তাতে নাকি ট্যামারল্যান লিখেছিলেন, তিনি আমেরিকানদের বুঝতে পারেন না। তাঁর কোনও মার্কিন বন্ধু নেই। স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে চেচেন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে দুই ভাইয়ের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
 
  
 
 
 
  
 
 



First Published: Sunday, April 21, 2013 - 10:40


comments powered by Disqus