ফৈয়জের কবিতায় ছবির দেশ কবিতার দেশ

পাকিস্তানের কিংবদন্তি কবি ফৈয়জ আহমেদ ফৈয়জের ৫১টি উর্দু কবিতার সঙ্কলন নিয়ে এক অভিনব প্রয়াস। যেখানে ফৈয়াজের কবিতার পাশপাশি হাতে হাত ধরে হাঁটবে পেন্টিংস। বইটির নাম : আ সং ফর দিস ডে।

Updated: Jan 12, 2012, 08:15 PM IST

পাকিস্তানের কিংবদন্তি কবি ফৈয়জ আহমেদ ফৈয়জের ৫১টি উর্দু কবিতার সঙ্কলন নিয়ে এক অভিনব প্রয়াস। যেখানে ফৈয়াজের কবিতার পাশপাশি হাতে হাত ধরে হাঁটবে পেন্টিংস। বইটির  নাম : আ সং ফর দিস ডে। বইটির প্রকাশনা নিয়ে দীর্ঘ এক দশক ধরে কাজ করেছেন ফৈয়জের মেয়ে সালিমা হাশমি এবং তাঁর স্বামী শোয়েব হাশমি। শোয়েব এই মুহূর্তে পাকিস্তানের অন্যতম বিশিষ্ট চিত্রনাট্যকার। প্রথমে ফৈয়জের একান্নটি কবিতাকে চয়ন করা হয়েছে। কবিতার সাবেকি মেজাজ না বদলে সেগুলোকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন শোয়েব হাশমি। তারপর সেই কবিতার কল্পনালতাকে একজন চিত্রকরের ভাষায় বইটির পাতায় পাতায় ফুটিয়ে তুলেছেন সালিমা। তাঁর রঙতুলির টানে। "আ সং ফর দিস ডে'-র অভিনবত্ব এখানেই।
ছবির সঙ্গে কবিতার বা কবিতার সঙ্গে পেন্টিংসের বরাবরের সহাবস্থান রয়েছে। প্যারিসের বিয়র পাব থেকে যেমন ফরাসি বিপ্লবের সূত্রপাত, ঠিক তেমনই ওই শহরের বহু ফুটপাথ, অলিগলির তস্য ঠিকানা জন্ম দিয়েছে শিল্পের ইতিহাসে পাকাপোক্তভাবে ঠাঁই করে নেওয়ার মত বহু চর্চিত শিল্পকলা, কবিতা, গদ্যসাহিত্যকে। ঠিক যেমন ১৮ শতকের শেষ দিকে ক্লদ মোনের "সূর্যোদয়ের ইম্প্রেশন' জন্ম দিয়েছিল এক মহান ইম্প্রেশনিস্ট আন্দোলনের। পল সেজান, এডুয়র্ড মানেদের ছবির ভাষা ছড়িয়ে পড়েছিল বোদলেয়রদের কবিতায়, এনরিখ গ্রানাডসদের সংগীতের স্বরে। "আ সং ফর দিস ডে'-র ছবি আর কবিতার ভাষায় সেই মানের যুগলবন্দী দেখতে পাওয়া যাবে বলেই দাবি করছেন হাশমি দম্পতি।

রেখার টানে, দৃশ্যের কল্পনায়, প্রকাশের অভিনবত্বে ছবিগুলি কবিতারই সহোদর বলে মন্তব্য সালিমা হাশমির। যদিও কবিতার রূপ-রস-গন্ধকে কতটা সঠিক ভাবে ছবিতে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন তা নিয়েও পুরোপুরি সংশয় মুক্ত নন তিনি। সালিমা হাশমি জানিয়েছেন, একজন চিত্রকরের দৃষ্টিভঙ্গিতেই ছবিতে কবিতার ব্যাখ্যা করেছেন মাত্র। কবিতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছিল না। এ ব্যাপারে স্বামী শোয়েব হাশমির মতামত এবং আবেগকেই গুরুত্ব দিয়েছেন ফৈয়জ তনয়া সালিমা। আগামী সপ্তাহে এপিজে কলকাতা লিটাররি ফেস্টিভালে যোগ দিচ্ছেন সালিমা হাসমি। যেখানে "আ সং ফর দিস ডে' নিয়ে কিছু বিদগ্ধ আলোচনার সাক্ষী থাকবেন কলকাতার ফৈয়জপ্রেমীরা।