মার্কিন মহারণ: জটিলতার টাই ভোট

Update: November 6, 2012 12:32 IST

প্রেসিডেন্ট মিট রোমনি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ বিডেন। প্রথমজন রিপাবলিকান। অন্যজন ডেমোক্র্যাট। কেমন হবে সেই যুগলবন্দি? ভাবতে অবাক লাগছে তো? ভাবছেন এমনটা আবার হয় নাকি? মার্কিন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন, সম্ভব। ইলেক্টরাল কলেজ ভোটের ফল টাই হলে, ঘটতে পারে এমনই আশ্চর্য ঘটনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ইলেক্টরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮। কোনও প্রার্থী যদি ২৭০টি ভোট পান, তাহলে তিনিই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবেন। কিন্তু যদি দুজনেই ২৬৯টি করে ভোট পান, তাহলে? 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনটা হলে গভীর রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতায় পড়বে আমেরিকা। নির্বাচনী ফল টাই হলে, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে পারবে। গেরোটা এখানেই। কারণ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে রিপাবলিকানদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা রয়েছে। সেখানে বেশি সমর্থন পেয়ে প্রেসিডেন্টের দৌড়ে উতরে যেতে পারেন রোমনি। তাহলে তিনিই হবেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, মার্কিন সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেখানে সমর্থন জুটিয়ে নিতে পারলে জোসেফ বিডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতে পারেন। দলীয় নীতি আর আদর্শগত দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থানকারী দুই প্রতিনিধি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষে এলে গণ্ডগোল যে বাধবেই, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মোটামুটি সে বিষয়ে নিশ্চিত। তবে এটা তখনই সম্ভব, যদি রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরে কোনও ফাটল না ধরে। সেক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের সব সদস্যকে নিজ নিজ দলের প্রার্থীকে একজোট হয়ে ভোট দিতে হবে।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।