যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে দুই কোরিয়ায়

কোরিয় উপদ্বীপে উত্তেজনা থামার কোনও লক্ষণ নেই। দু-দেশের সম্পর্ক যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে সিওলকে সতর্ক করে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। দুই কোরিয়ার যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা কাইসং শিল্পতালুক বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা।   

Updated: Mar 31, 2013, 09:16 AM IST

কোরিয় উপদ্বীপে উত্তেজনা থামার কোনও লক্ষণ নেই। দু-দেশের সম্পর্ক যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে সিওলকে সতর্ক করে দিয়েছে পিয়ংইয়ং। দুই কোরিয়ার যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা কাইসং শিল্পতালুক বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা।   
আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সেনা মহড়া জটিল করে তুলেছে কোরিয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি। মহড়া চলাকালীন বৃহস্পতিবার উপদ্বীপের ওপর দিয়ে উড়ে যায় মার্কিন বায়ুসেনার দুটি বোমারু বিমান। যৌথ সেনা মহড়াকে সিওল এবং ওয়াশিংটনের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় হিসাবেই দেখছে পিয়ংইয়ং।
 
দুই কোরিয়ার সমঝোতার শেষ প্রতীক কাইসং শিল্পতালুক নিয়েও জটিল হয়েছে পরিস্থিতি। দু`দেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ডে অবস্থিত এই শিল্পতালুকে একশোর বেশি কারখানায় দুই দেশের নাগরিকরাই কাজ করেন। কাইসং শিল্পতালুক উত্তর কোরিয়ার বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের অন্যতম উত্‍স হওয়ায় তারা এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করছে না। এই ধরনের অভিযোগ উঠতে শুরু করায় শনিবার পিয়ংইয়ং জানিয়ে দিয়েছে প্রয়োজনে এই শিল্পতালুক বন্ধ করে দিতেও তারা পিছপা হবে না। কোরিয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার অবস্থানের সমালোচনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তাদের দাবি, শুধুমাত্র আত্মরক্ষার্থেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যৌথ সেনা মহড়ায় অংশ নিয়েছে সিওল।
 
এ সবের মধ্যেই শনিবার আমেরিকা জানিয়েছে, কোরিয় উপদ্বীপের পরিস্থিতির দিকে তারা সতর্ক নজর রাখছে। উত্তর কোরিয়ার বক্তব্যকে মোটেই  হাল্কাভাবে নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বন্ধু দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে।  কোরিয় উপদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে রাশিয়া। ফেব্রুয়ারি মাসে পরীক্ষামূলকভাবে তৃতীয় পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় উত্তর কোরিয়া। এ ক্ষেত্রে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না মানায় কোরিয় উপদ্বীপে শুরু হয়েছেওয়াশিংটনের সেনা মহড়া। আর এর ফলেই দুই কোরিয়ার সংঘাত বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।