আল কায়দা জঙ্গিদের সমাধিস্থল যেখানে পবিত্র ধর্মস্থান

Last Updated: Monday, September 10, 2012 - 10:18

আল কায়দা নামটি শুনলেই সবার আগে মনে জেগে ওঠে আতঙ্ক। এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ। সেই বিভিষীকার ছায়া চিরতরে মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর বহু দেশ। তবে রয়েছে এর উল্টো ছবিও। তারই খোঁজ মিলেছে আফগানিস্তানের এক প্রত্যন্ত গ্রামে। এখানে আল-কায়দার জঙ্গিরা পায় বীরের মর্যাদা। আর মৃতেরা পায় শহিদের সম্মান। এমনকী একটি ধর্মস্থানও গড়ে তোলা হয়েছে আল-কায়দা যোদ্ধাদের সমাধিস্থলে।     খোস্ত থেকে চার কিলোমিটার দূরে আফগানিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় এই ধর্মস্থান আর পাঁচটা ধর্মস্থানের থেকে একটু আলাদা। এটি গড়ে উঠেছে আল-কায়দা জঙ্গিদের সমাধিক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই ধর্মস্থানের মাহাত্ম্য অপরিসীম। বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন এখানে আসেন প্রার্থনা করতে। সমাধিক্ষেত্রের ওপর বেঁধে দেওয়া হয় কাপড়ের টুকরো। মৃতদের সম্মান জানাতে। তাঁদের বিশ্বাস, এতে পূর্ণ হবে তাঁদের মনের ইচ্ছে।   
প্রায় পঁচিশ জন আল কায়দা জঙ্গিকে সমাধিস্থ করা হয়েছে এখানে। গ্রামের মানুষের কাছে তারা অবশ্য জঙ্গি নয়। এখানে তারা শহিদ।
এই স্থানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আফগান সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  
 
এই ধর্মস্থানে ঢোকার মুখেই দেখা যাবে পিস্তা খানকে। পয়ষট্টি বছরের এই বৃদ্ধ যেন দ্বাররক্ষীর ভূমিকায় রয়েছেন এখানে। গুরুত্বপূর্ণ এক দায়িত্বও রয়েছে তাঁর হাতে। এই ধর্মস্থানে আসা মানুষজনের খাবার কিংবা পানীয়তে সামান্য নুন ছড়িয়ে দেন তিনি। ধর্মীয়মতে এটি মৃতকে সম্মান প্রদর্শনের এক অঙ্গ। বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে কেউ এখান থেকে খালি হাতে ফিরবেন না।    
 
এখানের স্থানীয় বাসিন্দা পিস্তা খান বললেন, "বহু জায়গা থেকে লোকজন আসেন এখানে। পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকেও অনেকে এসে প্রার্থনা করেন সুস্থ হওয়ার জন্য। গ্রামের মানুষরা তো আসেনই।"প্রবীণ এই মানুষটির কাছে টাকা-পয়সাও দান করে যান অনেকে। সমাধিক্ষেত্রের ধর্মস্থান হয়ে ওঠার মুহুর্ত থেকে এখানেই রয়েছেন তিনি।
  
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এখানে আসতে গিয়ে বহুবার সরকারের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু নিজেদের বিশ্বাস থেকে একচুলও সরেননি তাঁরা। এই মানুষগুলির কাছে আল কায়দা সন্ত্রাসের সমার্থক নয়। বরং ঠিক তার উল্টো। আর এই কারণেই তাঁদের কাছে এই সমাধিস্থল হয়ে উঠেছে পবিত্র ধর্মস্থান।  
 



First Published: Monday, September 10, 2012 - 10:18


comments powered by Disqus