কলকাতায় আর ফেরা হল না কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউয়ের

শেষ পর্যন্ত খুন হতে হল কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউকে। অপহরণের পর সাহিত্যিক সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুলি করে খুন করে তালিবান জঙ্গিরা। আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের রাজধানী খরানায় স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন সুস্মিতা। বুধবার রাতে তালিবান জঙ্গির একটি দল তাঁদের ঘরে ঢোকে। সুস্মিতার স্বামী জাঁবাজ খান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বেঁধে রেখে, সুস্মিতাকে তুলে নিয়ে যায়। পরের দিন তাঁর নিষ্প্রাণ দেহ উদ্ধার হয় একটি ধর্মীয় স্কুলের সামনে।

Updated: Sep 6, 2013, 10:18 AM IST

শেষ পর্যন্ত খুন হতে হল কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউকে। অপহরণের পর সাহিত্যিক সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুলি করে খুন করে তালিবান জঙ্গিরা। আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের রাজধানী খরানায় স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে থাকতেন সুস্মিতা। বুধবার রাতে তালিবান জঙ্গির একটি দল তাঁদের ঘরে ঢোকে। সুস্মিতার স্বামী জাঁবাজ খান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বেঁধে রেখে, সুস্মিতাকে তুলে নিয়ে যায়। পরের দিন তাঁর নিষ্প্রাণ দেহ উদ্ধার হয় একটি ধর্মীয় স্কুলের সামনে।
মৌলবাদী নির্যাতনের বিরুদ্ধে অকুতোভয় হয়ে  কলম ধরেছিলেন সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখেছিলেন কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়। গোটা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল সেই বই। কিন্তু সেই আলোড়নও তালিবান জঙ্গিদের রক্তচক্ষু থেকে বাঁচাতে পারল না কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউকে। 
মাত্র ৪৯ বছরের জীবন। কিন্তু তা ছিল অসম্ভব বর্ণময়। কলকাতায় এক কাবুলিওয়ালার সঙ্গে দেখা। ভালবাসা। তারপর বিয়ে। ১৯৮৯ সালে স্বামী জাঁবাজ খানের সঙ্গে আফগানিস্তানে যান সুস্মিতা। তখন তিনি সাহিব কামালা। ১৯৯৩ সালে তালিবানি দাপট শুরু হওয়ার পরই বদলে যেতে শুরু করে জীবন। মৌলবাদীদের অত্যাচার সহ্যের সীমা ছাড়ানোয় কলকাতায় পালিয়ে আসেন তিনি।  আতঙ্কের স্মৃতি এক করে লিখেন কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ। তাঁর উপন্যাস অবলম্বন করে সিনেমাও তৈরি হয়েছে।
 
বাংলাতেও হওয়ার কথা ছিল কাবুলিওয়ালার বাঙালি বউ সিনেমাটি। প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল দেবশ্রী রায়ের।
গত তিরিশ মার্চেও সুস্মিতাদেবী গিয়েছিলেন কলেজ স্ট্রিটে।
কলকাতায় কিছুদিন দমদমে ছিলেন সুস্মিতাদেবি। সঙ্গে এক আফগান ব্যক্তি থাকতেন। 
 
সম্প্রতি সুস্মিতাদেবির আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছিল। বেশ কয়েকমাসের ইলেকট্রিক বিল দিতে না পারায় ফ্ল্যাটের বিদ্যুত্‍ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। 
 
সম্পর্কের টানেই হয়ত ফের আফগানিস্তানে ফিরে গিয়েছিলেন সুস্মিতা। স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে সেখানে কাজও করছিলেন। আফগান মহিলাদের জীবনযাত্রা ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তিনি। হয়তো সেকারণেই তালিবান জঙ্গিদের চরম রোষে পড়ে প্রাণ হারাতে হল তাঁকে। কিন্তু যে আফগানিস্তান ছেড়ে একদিন পালিয়ে এসেছিলেন সেখানেই কেন ফের ফিরে গেলেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।