সংলাপ কাণ্ডে বিচারকের রিপোর্টের কপি ২৪ ঘণ্টার হাতে

Last Updated: Friday, March 8, 2013 - 12:58

নোদাখালির হোমে কিশোরীর ওপর অমানবিক অত্যাচারের ঘটনায় হোমের থেকে দুর্ব্যবহার পেয়ে সোনারপুর থানায় ছুটে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা কিশোরীর পরিজনেরা। তাদের অভিযোগ, সংলাপের বিরুদ্ধে এফআইআর নিতে অস্বীকার করে সোনারপুর থানা। শেষপর্যন্ত ২৮ জানুয়ারি আলিপুর আদালতের ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিসট্রেট অমিতাভ মুখার্জির এজলাসে সুবিচারের আশায় আবেদন করেন তাঁরা।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল এবং সংলাপের কাছে রিপোর্ট তলব করে আদালত। কিশোরীকে গরম রড দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি সম্পুর্ণ গোপন রেখে সংলাপ আদালতকে জানায়, দীর্ঘ দিন খাবার না খাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ওই কিশোরী। অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছিল সে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশে তাকে শম্ভুনাথে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু এর মাঝেই কোমা থেকে বেরিয়ে আসে ওই কিশোরী। পুলিসের কাছে দেওয়া জবানবন্দীতে নিজের উপর হওয়া অত্যাচারের বিবরণ দেয় ওই নাবালিকা। সেই জবানবন্দী হাতে পেয়েই ক্ষুব্ধ বিচারক সংলাপ হোমের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন। নার্সিংহোমের শয্যায় শুয়ে কোনওরকমে চব্বিশ ঘণ্টাকে কিশোরী জানান, এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে সেই রাতের ভয়াবহ স্মৃতি। কীভাবে তার উপর পাশবিক অত্যাচার হয়েছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি আলিপুর কোর্টের বিচারক অমিতাভ মুখার্জির দেওয়ার নির্দেশের এক্সক্লুসিভ কপি চব্বিশ ঘণ্টার হাতে। কপিতে বলা হয়েছে নির্যাতিতার শরীরে সব আঘাতই বার্ন ইঞ্জুরি। সংলাপ হোমে কিশোরীর উপর পাশবিক অত্যাচার চলেছে। তাকে লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আদালত ১৫৪ সিআরপিসি অনুযায়ী এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছে। তদন্তের সময় মেয়েটিকে সংলাপের হেফাজতে না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যে ঘটনা ঘটিয়েছে সংলাপ, তাতে আদালত মনে করে এই প্রতিষ্ঠান শিশুদের রক্ষা করা ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। সোনারপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে সংলাপের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সচিব, জেলার চাইল্ড প্রোটেকশন টিমের চেয়ারপার্সন এবং পুলিস সুপারকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে আদালত।
হোমের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন বিচারক-
১. এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে বিচারককে ভুল পথে চালিত করতে কীভাবে একজন হোমের সুপার ভুল রিপোর্ট আদালতে জমা দেন। যেখানে একজন নির্যাতিতাকে হোমের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে, সেখানে এঘটনা আদালতের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে হয়েছে।
২. শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হলেও সেই রিপোর্ট এখনও আদালতে পাঠায়নি হাসপাতাল। শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট চিকিত্‍সকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ বিচারক।
৩. নির্যাতিতার ডিসচার্জ সামারিতে কোথাও বার্ন ইঞ্জুরির উল্লেখ নেই। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। যেখানে ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার শরীরে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন।
নির্যাতিতা কিশোরীর মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালের ডাক্তাররা। বিচারকের প্রশ্ন, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে থাকাকালীন ওই কিশোরী কোমায় ছিল। পুলিস রিপোর্টেই তার উল্লেখ রয়েছে। যে কিশোরী কোমায় আচ্ছন্ন তার মানসিক অবস্থা কীভাবে বুঝলেন চিকিত্‍সকরা?



First Published: Friday, March 8, 2013 - 13:11


comments powered by Disqus