আরাবুলের গ্রেফতারিতে পুলিসের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ

Update: January 26, 2013 21:29 IST

যাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর তিনিই থানায় গিয়ে আরেকটি এফআইআর করছেন। এফআইআরে যাঁদের নাম, তাঁদের কাছেই পুলিস সাহায্য চাইছে। ভাঙড় কাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি কার্যত প্রমাণ করছে, রাজনৈতিক নির্দেশেই চলছে পুলিস। প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে, আরাবুল ইসলামের গ্রেফতারি কি তবে স্রেফ চাপের মুখে চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা? 

আটই জানুয়ারি ভাঙড়ের বামনঘাটায় হামলা হয় সিপিআইএম কর্মীদের বাসে। যদিও পালটা হামলার অভিযোগই করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। কে এল সি থানায় গিয়ে ওই অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেন ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি প্রদীপ মণ্ডল। এফআইআর নম্বর ১০ বাই ১৩। নীচে প্রদীপ মণ্ডলের স্বাক্ষর। 
 
প্রদীপ মণ্ডল। ৬ জানুয়ারি ভাঙড়ের কাঁটাতলায় বিধায়ক রেজ্জাক মোল্লার উপর হামলায় অভিযুক্ত। রেজ্জাক মোল্লার গাড়ির চালক অমর ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে প্রদীপ মণ্ডলের নাম আছে চার নম্বরে। অভিযুক্তদের তালিকায় এক নম্বরে নাম থাকা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আরাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, বিস্ফোরক নিরোধক আইন-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিস। আর সেই ঘটনাতেই আরেক অভিযুক্ত থানায় গিয়ে এফআইআর লেখাচ্ছেন। লেখাচ্ছেন তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দুদিন পরে।
 
আটই জানুয়ারি কে এল সি থানায় দায়ের করা অভিযোগে প্রদীপ মণ্ডল জানিয়েছেন আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছয়ই জানুয়ারি রেজ্জাক মোল্লার উপর হামলায় অভিযুক্ত আরাবুল ইসলাম, প্রদীপ মণ্ডলদের কাছেই সাহায্য চেয়েছিল পুলিস। আটই জানুয়ারি বামনঘাটায় দাঁড়িয়ে চব্বিশ ঘণ্টার প্রতিনিধিকেও সে কথা জানিয়েছিলেন প্রদীপ মণ্ডল। তা হলে কি আরাবুল ইসলামের গ্রেফতারি স্রেফ চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা? না হলে তো প্রদীপ মণ্ডলদেরও গ্রেফতার করত পুলিস। তবে কি রাজনৈতিক নির্দেশেই চলছে পুলিস? 
 

Post Your Comment

Total Comments:3

all is well

sob e maaya... etar naam deowa jai ``rajnoitik mayajaal``

  • HARMAD
  • Posted: 1/27/2013 3:06:44 PM

Maya aar Mamata ei dui niyei to jibon..

The arrest of Arabul is only to eye wash the common people. Administration of WB is running now by the guidance of TMC supremo. No doubt the administration of WB will deteriorate to a large extent in near future.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।