টাকা নিয়েছিলেন খুদে, জানতেন আরাবুল, দাবি ভাঙড় হত্যাকাণ্ডের ধৃতের

Update: August 27, 2012 23:21 IST

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙড়ে আজিজুল বৈদ্য খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিঞাজান হালদারকে গ্রেফতার করল পুলিস। গ্রেফতার হওয়ার পরেই প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামের ভাই খুদের বিরুদ্ধে নতুন করে একপ্রস্থ অভিযোগ আনলেন মিঞাজান। তাঁর দাবি, টাকা লেনদেনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত খুদে এবং বিষয়টি আগাগোড়াই জানতেন তাঁর দাদা আরাবুল ইসলাম।তাঁর আরও অভিযোগ, আজিজুল বৈদ্য ও তাঁর ভাই মাটি কেনার জন্য যে সাড়ে চার লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ২ লক্ষ টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়। বাকি আড়াই লক্ষ টাকার মধ্যে মিঞাজান হালদার এবং আরেক অভিযুক্ত মোমিন মোল্লা পান ৩৫ হাজার টাকা। বাকি টাকা থাকে খুদের কাছেই। ধৃত মিঞাজান এ-ও জানান যে, খুদে নিজের হাতেই মাটি কেনার জন্য অগ্রিম টাকা নিয়েছিলেন।

আরাবুল ইসলামের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

চলতি মাসেরই ১৮ তারিখ মাটি কেনা নিয়ে গোলমালের জেরে ভাঙড়ের কাশীপুরে আজিজুল বৈদ্যকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়। সেই খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামের ভাই আজিজুল ইসলাম ওরফে খুদের। এসএসকেএমে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সন্ধ্যায় সেখানেই মৃত্যু হয় আজিজুলের। তবে তাঁর ভাই খুনের ঘটনায় যুক্ত নন বলে তখনই জানিয়ে দিয়েছেন আরাবুল ইসলাম।

মাটি কেনাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, মাটি কেনার জন্য আজিজুল ও তাঁর ভাই এসারাত সাড়ে চার লক্ষ টাকা অগ্রিম দেয় মিঞাঁজান হালদার ও মোমিন মোল্লাকে। খুদে ছিলেন তার মধ্যস্থতাকারী। কিন্তু ন`মাস হয়ে গেলেও টাকা ও মাটি কিছুই ফেরত পাচ্ছিলেন না আজিজুলরা।

শনিবার, অর্থাৎ ১৮ অগাস্ট টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ডেকে পাঠানো হয় আজিজুল ও তাঁর ভাইকে। এরপরই আজিজুলকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। মধ্যস্থতাকারী থাকার কারণে বারবার খুদের কাছে গেলেও কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।

সেইদিনই কাশীপুর থানা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ভাইকে বাঁচানোর জন্য প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ও তার বাহিনী কাশীপুর থানায় ঢুকে বসে পড়ে বলে অভিযোগ। পুলিসকর্মীরাও ভয়ে কোনও কাজ করতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, আজিজুলের বাড়ির লোকেরাও ভয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে পারছিলেন না। অবশেষে ২৪ ঘণ্টার খবর সম্প্রচারিত হওয়ার পর আরাবুল ও তার বাহিনী থানা ছেড়ে চলে গেলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন ওই থানার কর্মীরা ও পুলিসের শীর্ষ কর্তারা।

Post Your Comment

Total Comments:1

Being a simple citizen, I`ve expressed, the very day of the incident, in this column that Arabullah is the main culprit. I also said no one will be touched as Arabullah & co. are the pillars of Mamata`s party, TMC, who will play pivotal role in the coming Panchayat election. So no police or administrative authority is there in WB who will dare to touch them ! So your press news will have no effect.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।