বিপন্ন পূর্ব মেদিনীপুরের বাগদা চাষিদের ভবিষ্যত্

Last Updated: Thursday, August 16, 2012 - 22:43

রাজ্য মত্‍স্য দফতরের চরম ঔদাসীন্যে বিপন্ন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাগদা চিংড়ি চাষিদের ভবিষ্যত্‍। অনেকেই আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে জেলার বাগদা চাষিদের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা। আত্মহত্যা আর লোকসানের কারণ জানতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী তড়িঘড়ি মত্‍স্য দফতরের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরে বাগদা চাষিদের হয় মাছ বিক্রি হচ্ছে না, নয়তো উপযুক্ত দাম পাছেন না তাঁরা। ফলে লোকসানের মুখে তাঁদের অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ঘটনার কারণ হিসাবে কাঁথি মত্‍স্য দফতরের আধিকারিক পিনাকীরঞ্জন দে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করছেন, সাধারণত অন্যান্য ধরনের মাছের সঙ্গেই বাগদা চিংড়িও পুকুর থেকে তোলা হয়। কিন্তু সেই চিংড়ি সংরক্ষণের জন্য রাজ্যে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা সীমিত। এ বার উত্‍পাদন দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজার টন। ফলে এই চিংড়ি কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে মত্‍স্য চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। সংরক্ষণের অভাবে রফতানিকারীরাও দাম কমিয়ে দিচ্ছেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা অতিরিক্ত মাছ কিনতে পারছেন না। খরচ
বাঁচাতে তাইল্যান্ড, জাপান, ভিয়েতনামের মতো বেশ কিছু দেশ ভোনামি নামে এক ধরনের সাদা চিংড়ির চাষ শুরু করেছে। বাগদার চেয়ে অর্ধেক দামে যার উত্‍পাদন সম্ভব। বাগদা রফতানির ক্ষেত্রে এটাও একটা অন্তরায়। ফলে বাগদা চাষিদের স্থানীয় বাজারে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। কেজিপ্রতি তাঁদের লোকসান হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। আগের সরকারের আমলে বাগদা চাষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ছিল। ফলে এখনকার মতো এত চাষি ছিল না এলাকায়। এই সরকারের উদাসীনতায় মত্স্য দফতরকে কর না দিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতে বহু চাষিই নিজেদের জমি রাতারাতি বাগদা চাষের পুকুরে পরিণত করছেন বলে অভিযোগ। মত্স্য ও ভূমি দফতর এ বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিলে এবং জেলায় কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করলে বেশি উত্পাদনের সঙ্কট তৈরি হত না বলে মনে করছেন জেলা মত্‍স্য বাগদা চাষি সংগঠনের নেতারা।
এই অবস্থায় জেলায় চিংড়ি পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করা আগে প্রয়োজন বলে মনে করছেন পিনাকিরঞ্জন বাবু। মত্স্য দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে,
১. জেলায় বাগদা চাষের জন্য কোনও পরীক্ষাগার নেই
২. ফলে গুণগত মান কমছে মাছের
৩. মাছের ওষুধ-সহ বিভিন্ন জিনিস সরবরাহক্ষেত্রে ফড়েদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। নিম্ন মানের ওষুধ সরবরাহের জন্যও কমছে মাছের গুণগত মান
৪. জেলায় কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা বেশ কম
৫. বিদেশের বাজারে রফতানি কম
৬. বহু চাষি বেআইনি ভাবে মাছ চাষ শুরু করেছেন
এই ধরনের বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। বিপন্ন চাষিরাও নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন।



First Published: Thursday, August 16, 2012 - 22:47


comments powered by Disqus