বারাসতে চিকিৎসক খুনের ঘটনায় ধৃত আরও ১

Last Updated: Tuesday, September 4, 2012 - 09:33

গতকাল শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুনের জেরে আজ আরও একজনকে গ্রেফতার করল পুলিস। ধৃতের নাম সিরাজুল ইসলাম। গতকাল সন্ধেয় প্রথম অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিস। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন ডিআইজি, জেলা পুলিস সুপার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
সোমবার দুপুরে মদ্যপ যুবকদের অশালীন আচরণের প্রতিবাদের করায় মৃত্যু হয় এক হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকের। ঘটনার জেরে এলাকার জুয়ার ঠেকে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা।
একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনার জেরে সম্প্রতি বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত। পুলিস-প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জেরেই এলাকায় দুষ্কৃতীদের দাপট দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার মদ্যপ যুবকদের অশালীন আচরণের প্রতিবাদ করায় মৃত্যু হল এক চিকিত্সকের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন দুপুর আড়াইটে নাগাদ পূর্ব ইছাপুরের  কদম্বগাছি এলাকায় জনাদুয়েক মদ্যপ যুবক অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করায় প্রতিবাদ করেন হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক বিকাশ মল্লিক। এর জেরেই বচসার সূত্রপাত। এরপর আচমকা বছর ষাটের ওই চিকিত্সকের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। এর পর তাঁকে ধাক্কা দেওয়ায় গাছে লেগে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বিকাশবাবু। তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা।
খবর পেয়ে বিকেলেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বারাসত থানার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরে সন্ধ্যায় ওই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে। পুলিসসূত্রে জানা গেছে ধৃতের নাম জামাল।  এই ঘটনায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পুলিসের বিরুদ্ধে ফের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একের পর এক ঘটনা ঘটলেও পুলিস নিষ্ক্রিয় থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। এলাকায় বাড়তে থাকা দুষ্কৃতী তাণ্ডবের জন্য পুলিসের নিষ্ক্রিয়তাকেই দায়ী করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বারাসত এলাকায় ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে এসইউসিআই। দলের তরফে স্থানীয় বাজার ও দোকানপাট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।



First Published: Tuesday, September 4, 2012 - 17:21


comments powered by Disqus