কম্পালসারি ওয়েটিং-এ পাঠানো হল নন্দকুমারের বিডিওকে

মুখ্যমন্ত্রীর জেলাসফর মানেই তটস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এই নিয়ে পরপর দুবার। আসানসোলের অতিরিক্ত জেলাশাসকের পর ফের শাস্তির মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের বিডিও শীর্ষেন্দু সাহা। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মাঝেই তাঁকে পাঠানো হয়েছে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়েই রোষের মুখে পড়েছেন তিনি।

Updated: Feb 13, 2013, 10:41 PM IST

মুখ্যমন্ত্রীর জেলাসফর মানেই তটস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এই নিয়ে পরপর দুবার। আসানসোলের অতিরিক্ত জেলাশাসকের পর ফের শাস্তির মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের বিডিও শীর্ষেন্দু সাহা। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মাঝেই তাঁকে পাঠানো হয়েছে কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়েই রোষের মুখে পড়েছেন তিনি।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার ব্লকে বারোটি পঞ্চায়েত। তার মধ্যে শীতলপুর পশ্চিম, বাসুদেবপুর, সাওড়াবেড়িয়া জলপাই-এক এবং কুমারচকের বিরুদ্ধে রয়েছে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। শীতলপুর পশ্চিম গ্রাম পঞ্চায়েতে এনআরইজিএস প্রকল্পের আওতায়  পুকুর খনন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সেই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেন নন্দকুমারের বিডিও শীর্ষেন্দু সাহা। আদালতে মামলা শুরু হয়। এসিজেএম-এর নির্দেশে তদন্ত শুরু করে পুলিস। অভিযুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি তৃণমূলের দখলে হওয়ায় শাসক দলের নেতাদের রোষের মুখে পড়েন বিডিও। তাই কি মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই সাত তাড়াতাড়ি তাঁকে সরানো হল?
১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে দায়িত্ব থেকে সরানো হয় শীর্ষেন্দু সাহাকে। চার্জ হ্যান্ডওভার মেমো এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের চিঠি, এই দুই সরকারি নথিতেই উল্লেখ রয়েছে, বারোই ফেব্রুয়ারি বিকেলে সরানো হয়েছে শীর্ষেন্দু সাহাকে। মঙ্গলবার বিকেলে এই সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনামা ফ্যাক্স মারফত এসে পৌঁছয় তাঁর হাতে। কিন্তু মহাকরণ থেকে পাঠানো সেই নির্দেশে তারিখ ছিল গত ১৫ জানুয়ারি।
তাহলে এতদিন আগের নির্দেশ কেন বারো তারিখেই বাস্তবায়িত করা হল? নাকি বারোই ফেব্রুয়ারি জারি নির্দেশে ইচ্ছে করেই পুরনো তারিখ দেওয়া হয়েছে? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি।
জানুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর আসানসোল সফরের সময়েও তাঁর ইচ্ছেয় বাধ সেধেছিলেন স্থানীয় অতিরিক্ত জেলাশাসক জয়ন্ত আইকত। নিরাপত্তার কারণে মঞ্চে সাইকেল তুলতে দেননি তিনি। ফলস্বরূপ সরতে হয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি কলকাতার টাউন হলে বিডিওদের সভায়, নিজের মোবাইল নম্বর ও ইমেল অ্যাড্রেস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে কোনও প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে। তবে কি দুর্নীতিতে অভিযুক্তের তালিকায় তৃণমূল নেতাদের নাম থাকলেই বদলে যাবে নিয়ম? নন্দকুমারের বিডিওর বদলির ঘটনায় উঠতে শুরু করেছে সেই প্রশ্ন।