বিনিয়োগ টানতে বেঙ্গল লিডস, তবুও উদ্বিগ্ন শিল্পমহল

Update: January 11, 2013 11:14 IST

বিনিয়োগ টানতে এ বার হলদিয়ায় বেঙ্গল লিডসের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। তবে, শিল্প সম্মেলনের ঠিক আগে ভাঙড়কাণ্ড উদ্বেগ বাড়িয়েছে শিল্পপতিদের। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শিল্পায়ন যে সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বণিকমহল। শিল্পের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন তাঁরা।
এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গল লিডসের আগে চরম অস্বস্তিতে প্রশাসন। প্রশ্নের মুখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের ভূমিকা।

এ রাজ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এতদিন শিল্পমহলের কাছে বড় বাধা ছিল সরকারের জমিনীতি, তোলাবাজি। এ বার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খোদ রাজ্যপাল।

বিনিয়োগ টানতে পনেরো থেকে সতেরোই জানুয়ারি হলদিয়ায় হবে শিল্প সম্মেলন। বেঙ্গল লিডসের এই অনুষ্ঠানে শিল্পমহলের মুখোমুখি হবেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্দর থেকে এবিজি বিতাড়নের পর শিল্পবান্ধব ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এ বার বেঙ্গল লিডসের জন্য হলদিয়াকেই বেছেছেন তিনি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কলকাতা ও ভিন রাজ্যের শিল্পপতিদের। বেঙ্গল লিডসের প্রস্তুতি নিয়ে বণিকমহলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে, হলদিয়ায় শিল্প সম্মেলনের ঠিক আগে ভাঙড়কাণ্ডে তীব্র অস্বস্তিতে রাজ্য সরকার। খোদ শিল্পমহলই মনে করছে, এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে খারাপ বার্তা দিচ্ছে।

দেড় বছরে শিল্পপতিদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিনিয়োগের খোঁজে দিল্লিতেও গেছেন। বিজয়া সম্মিলনীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বণিকমহলকে। শিল্পপতিরা মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে বৈঠকে এলেও আসেনি বড় বিনিয়োগ। এই অবস্থায় লগ্নি আনতে দ্বিতীয় বেঙ্গল লিডসের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য সরকার। যদিও, শিল্পমহলের বক্তব্যে  স্পষ্ট সরকারের ভূমিকায় তাঁরা যথেষ্টই হতাশ।

রাজ্য সরকারের জমিনীতির জন্য বিনিয়োগে বাধার কথা আগেই জানিয়েছে বণিকমহল। পরিকাঠামো ও ইনসেনটিভের অভাবও তৈরি করেছে লগ্নির অনীহা। শাসকদলের চাপে এবিজির হলদিয়া বন্দর ছাড়তে বাধ্য হওয়া, সংস্থার আধিকারিকদের অপহরণের অভিযোগ - সবই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলেছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। অভিযোগ ছিল আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও। সাম্প্রতিক, ভাঙড়কাণ্ড এ সবের সঙ্গেই যোগ করেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। সব মিলিয়ে রাজ্যে শিল্পায়নের পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ খোদ শিল্পপতিদের। মুখ্যমন্ত্রী এখনই ব্যবস্থা না নিলে শিল্পের হাল ফিরবে না বলেই মনে করছেন তাঁরা। এই অবস্থায় আরও একটা বেঙ্গল লিডস কি বিনিয়োগের মরা গাঙে জোয়ার আনতে পারবে? এখন সে দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।








Post Your Comment

Total Comments:1

ZEE NEWS ER DUJON SANBADIK JAIL THEKE CHARA PAICHE NA AKHONO GHANI TANCHE BLACK MAIL KARAR JONNO?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।