ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় রাজ্য জুড়ে পালিত ভাইফোঁটা

Last Updated: Thursday, November 15, 2012 - 11:20

আজ ভাইফোঁটা। ভাই-বোনের চিরন্তন মধুর সম্পর্ক উদ্বযাপনের ভালবাসার উৎসব। বছরের বাকি দিন গুলোর খুনসুটি, ঝগড়া, অকারণ হিসাবনিকাস আজ কুঠুরিতে তালা বন্দী। শহর,শহরতলীর সীমানা ছাড়িয়ে গ্রাম-গঞ্জ- গোটা রাজ্যেই ভ্রাতৃদ্বীতিয়ায় ব্যস্ত সবাই। বাঙালির সব থেকে লম্বা উৎসব মরসুমের আজ শেষ দিন। আরও একবার সেই রুটিনে বাঁধা অনুজ্জ্বল যান্ত্রিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আগে উৎসবের আনন্দেকে চেটেপুটে উপভোগ করতে ভীষণ ব্যস্ত সবাই। চন্দন, কাজল, দইয়ের ফোঁটা নিতে বাবু সেজে ভাইরা এক্কেবারে রেডি। ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় বোনেরাও প্রস্তুত। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে যমের সঙ্গে পাকাপাকি শত্রুতার পথ বেছে নিয়েও অকুতভয় তারা। বেসুরো শাঁখের শব্দে মোটামুটি ফোঁটা নেওয়া সারা সব্বার। কিছু কিছু লেট লতিফদের অবশ্য এখনও ফোঁটা নেওয়া টেওয়া বাকি। কারোর আবার আজ অফিসের ছুটি নেই। তাই কেউ কাল প্রতিপদের সন্ধেতেই কাজ কম্ম মিটিয়ে রেখেছেন।
ভাইফোঁটা সঙ্গে উপহারের সম্পর্কটা ভীষণ ঘনিষ্ট। যমের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করে ঠিকঠাক আমদানি না হলে বোনেদের কিন্তু মুখ ভার হতে বাধ্য। অন্যদিকে ফোঁটার সঙ্গে ভাইয়েরাও কিন্তু উপহার নিতে বেজায় ব্যস্ত। উপহারের লিস্টিতে চিরন্তনী সোনারূপোর গয়না থেকে প্রসাধনী, আহ্লাদী পুতুল থেকে বই, চকলেট,শোপিস, জামা, জুতো, ব্যাগ সব কিছুই আছে। বাজেটের সঙ্গে তালমিলিয়ে সঠিক জিনিস শুধু কেনার অপেক্ষায়।
ফোঁটার দিনে ভাইয়ের পাতে মিষ্টি তুলে দিতে না পারলে পুরো অনুষ্ঠানটাই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। ভাইফোঁটার আগের রাতে তাই লম্বা লাইন শহরের নামীদামি মিষ্টির দোকানে। নামী দোকানের রকমারি মিষ্টির পাশাপাশি তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বর্ধমানের মিহিদানা, সীতাভোগ, ল্যাংচা। কোথাও বেড়েছে মিষ্টির দাম, কোথাও আবার দাম এক রেখে ছোট করে দেওয়া হয়েছে মিষ্টির সাইজ। তা নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দূরে রেখে বোনেরা এখন ব্যস্ত ভাইকে মিষ্টিসুখে ভাসাতে। 
এই গোটা উৎসব মরসুমে পেটপুজোর সেরাদিন বোধহয় ভাইফোঁটাই। তাই সকাল থেকেই মাংসের দোকানেও লম্বা লাইন। ভীড় এড়াতে কালকেই অবশ্য বাজার সেরে রেখেছেন অনেকেই। তবে এবারের ভাইফোঁটায় বাঙালির প্রিয় মাছের বাজারে সত্যি আগুন। ইলিশ, পাবদা, গলদা-বাগদার মত কুলীন মাছেদেরতো কথাই নেই দক্ষিণ থেকে চালান করা রুই,কাতলা থেকে সস্তা বলে পরিচিত বাটার মত মাছেরাও আগুন বাজারের ছোঁয়ায় দুর্মূল্য আজ। তাও বাঙালির বিশেষ দিনতো আর মাছ ছারা অসহায় জীবন যাপন করতে পারে না। তাই অগ্নিমূল্য বাজারকে কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে মোটামুটি ভেন্টিলেশনে চলে যাওয়া পকেটকে একদিনের জন্য পাত্তা না দিয়ে আম বাঙালি আজকের দিনে রসনা তৃপ্তিতেই মন দিয়েছে।



First Published: Thursday, November 15, 2012 - 11:20


comments powered by Disqus