রবিরার আরামবাগে বুদ্ধদেবের কর্মিসভা বানচালের চেষ্টা তৃণমূলের

দলীয় কর্মীসভায় যোগ দিতে রবিবার আরামবাগ যাচ্ছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সভায় যোগ না দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি জায়গায় সিপিআইএম কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

Updated: Sep 9, 2012, 01:52 PM IST

দলীয় কর্মীসভায় যোগ দিতে রবিবার আরামবাগ যাচ্ছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সভায় যোগ না দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি জায়গায় সিপিআইএম কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
গোরপুকুর মোড়ে সিপিআইএম কর্মীদের একাধিক বাস আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সিপিআইএম নেতা শক্তিমোহন মালিক। এদিন সকালে আরামবাগের গৌরহাটি মোড় এলাকায় সিপিআইএমের একটি দলীয় কার্যালয়ে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তা নামিয়ে নেওয়া হলেও এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে। এর আগে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করে ওই সভার অনুমতি আটকে দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে সমালোচনাও হয় বিস্তর। পরে অবশ্য, নির্ধারিত দিনেই কর্মিসভার অনুমতি দেয় প্রশাসন।
তার আগে সিপিআইএমের আরামবাগ ৩ নং লোকাল কমিটির সম্পাদক শ্যাম চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শ্যামবাবুর অভিযোগ তৃণমূলের তরফে তার পরিবারকে প্রাননাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ঘরছাড়া হয়েই দিন কাটাতে হচ্ছিল স্থানীয় প্রবীন এই সিপিআইএম নেতাকে। নিজের ঘর ছেড়ে আরামবাগের বাসুদেবপুরমোড়ে ভাড়া বাড়িতেই পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। শুক্রবার সন্ধেয় তাঁর ভাড়া বাড়ির সামনে ব্যাপক বোমাবাজি হয়। তৃণমূল কর্মীরাই এই হামলার পিছনে যুক্ত বলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন শ্যাম বাবু। তৃণমূল কর্মীদের হুমকি ও হুঁশিয়ারির কথা জানিয়ে শুক্রবার আরামবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌঁছান আরামবাগ থানার পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়েনি। তবে ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কিত শ্যামবাবুর পরিবার।
রবিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সভা ঘিরে প্রথম থেকেই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রসঙ্গ তুলে প্রথমে সভা করার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছিল না প্রশাসনের তরফ থেকে। পরে অবশ্য অনুমতি মেলে। কিন্তু এরপরেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। সিপিআইএম-এর হুগলি জেলা নেতৃত্ব অভিযোগ করেন সভা বানচাল করার লক্ষ্যে সিপিআইএম নেতাদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকি বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি দিচ্ছে তৃণমূল কর্মীরা। সভায় লোক নিয়ে গেলে বিপদে পড়তে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলের তরফে। স্বাভাবিক ভাবেই এই সব অভিযোগই অস্বীকার করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে।