কৃষি নিয়ে উদ্বিগ্ন বুদ্ধদেব, তোপ বিজেপিকেও

Update: January 5, 2013 17:37 IST

গত দেড় বছরে রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে পড়েছে। আজ পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে সর্বভারতীয় কৃষকসভার ৩৬তম জেলা সম্মেলনে এমনই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। শত বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশে আসা বিপুল জনসমাগমের লক্ষ্যে তিনি বলেন, "চাষের খরচ লাগাম ছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্য সরকার ধান কিনছে না।" ফলে কৃষকরা বিপদে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। যেখানে কেন্দ্র প্রতি কুইন্টালে ধানের দাম বরাদ্ধ করেছে ১ হাজার ২৫০ টাকা। সেখানে এ রাজ্যর ধান চাষিরা ৮০০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না বলে বুদ্ধবাবুর অভিযোগ।

তৃণমূল নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের চাকরি হয়নি। অথচ ইমামদের ভাতা দেওয়ার মতো ঘটনায় ভারতীয় জনতা দলের মতো ছিদ্রান্বেষী রাজনৈতিক দলগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এমনটাই মত রাজ্যের প্রক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বহুবার পুর্ব মেদিনীপুর সফরে যেতেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু আজ তিনি ধরা দিলেন অন্য মেজাজে। পর্যাপ্ত রাস্তা না থাকায় মোটরবাইকে চেপেই সভাস্থলে পৌঁছতে হয় তাঁকে। সভামঞ্চ থেকে তাঁর অভিযোগ, "রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ধুঁকছে। পূর্ব মেদিনীপুরে পঞ্চায়েতের টাকা চুরি চলছে।" রাজ্যের জেলাগুলিতে চলতে থাকা এই যথেচ্ছ তছরুপের বিষয়টি গ্রামের মানুষ বেশ বুঝতে পাড়ছে বলেই দাবি বুদ্ধবাবুর।

আজ চণ্ডীপুর থানার সামনে বিনয় স্মৃতি ফুটবল মাঠে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে সর্বভারতীয় কৃষকসভার ছত্রিশতম জেলা সম্মেলনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সঙ্গে বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র, বিনয় কোঙার সহ অন্যান্য জেলা নেতৃত্ব। দু`দিন ধরে চলবে সম্মেলন। আজ বক্তব্যের শুরুতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, "ভয় দেখিয়ে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মানুষের অধিকারকে আটকানো যাবে না।" রজ্যের বিভিন্ন স্থানে বামপন্থীদের পার্টি অফিসে হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় সমাজবিরোধীরা আক্রমণ চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।





Post Your Comment

Total Comments:2

DIDI O DIDIR VAIPO BUBAI DAR CHANDI PURER SOVA T DEKHA UCIT CHILO.JONO SAVAR LOK SONKHA MATRO 120000.00.... Jon HOYE CHILO.

apnar mukh na dhekanoi bhaol.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।