বন্দরে বিরোধ

দূর্নীতি নিয়ে এই মুহূর্তে ভারতীয় রাজনীতি সরগরম। আর সেই সময়েই প্রতি বছর প্রায় দুশো কোটি টাকার দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠল হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এক, দু টাকা নয়, দুশো কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে কিছু লোক, কিন্তু এক টাকাও আয় হচ্ছে না হলদিয়া বন্দরের। আর তাতে বাধা দিতে গেলে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে।

Updated: Oct 2, 2012, 01:09 PM IST

দূর্নীতি নিয়ে এই মুহূর্তে ভারতীয় রাজনীতি সরগরম। আর সেই সময়েই প্রতি বছর প্রায় দুশো কোটি টাকার দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠল হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এক, দু টাকা নয়, দুশো কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে কিছু লোক, কিন্তু এক টাকাও আয় হচ্ছে না হলদিয়া বন্দরের। আর তাতে বাধা দিতে গেলে বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অপহরণ, এমনকী প্রাণহানির হুমকিও শুনতে হয়েছে। এমনকি হাতে উঠেছে বদলি বা সাসপেন্ডের চিঠিও।
ঠিক এই ঘটনাই ঘটেছে বন্দরের জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রমাকান্ত বর্মণের সঙ্গে। দূর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারাত্মক এক ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল হলদিয়া বন্দরের এই অফিসারকে। প্রথমে রমাকান্ত বাবুকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে প্রাণহানির হুমকি দেওয়া হয়। এরপর কোন রকমে ছাড়া পান তিনি। গত তেইশ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। জেলার পুলিস সুপারকে লেখা চিঠিতে তিনি পুরো ঘটনা জানান। কীভাবে তাঁকে অপহরণ করা হয়, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং হুমকি দেওয়ার সময় কারা ঘটনাস্থলে ছিলেন সব কিছু জানান। তেইশ তারিখ এই ঘটনা ঘটলেও তিনি পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করার জন্য সরকারি অনুমতির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। যদিও এর পরেই বন্দর কর্তৃপক্ষ রমাকান্ত বর্মণকে বদলি ও সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। গত আঠাশে সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিস সুপারকে কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যান মণীশ জৈন একটি চিঠি লেখেন। তাতে মণীশ জৈন জানিয়েছেন জেলা গোয়েন্দা দফতরের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই রমাকান্ত বর্মণকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে এই পরিণতি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তার অভাবে আতঙ্কিত এই অফিসারের বাড়ির লোকজন।
গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন কারণে হলদিয়া বন্দরের আয় ক্রমশ কমছে। তার ফলেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এই বন্দরের এক বিরাট অংশের কর্মী। দু`হাজার সাত-আট সালে যেখানে আয় ছিল ৪৩২.৫০ কোটি টাকা দু`হাজার এগারো-বারো সালে তা কমে গিয়ে হয়েছে ৮৯.৪৪ কোটি টাকা। এভাবেই কমতে থাকা আয়ের কারণে নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল হলদিয়া ডক অফিসার্স ফোরামের তরফে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের সাত তারিখ অছি পরিষদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে প্রস্তাব অনুসারে সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়। আর এ থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। পাঁচটি সংগঠন মিলে তৈরি হয় হলদিয়া ডক বাঁচাও কমিটি। রমাকান্ত বাবু এই কমিটির আহ্বায়ক। এই কমিটির দাবি, বন্দরের সবকটি বার্থই টেন্ডার ডেকে বিলি করা হোক। তার পক্ষে তাঁরা যুক্তিও দিয়েছেন। দুই ও আট নম্বর বার্থ দুটিতে পণ্য ওঠানো ও নামানোর যাবতীয় কাজ টেন্ডার ডেকে বিলি করা হয়েছিল। ফলে সর্বোচ্চ লাভ হয় বন্দরের। কিন্তু ফোর বি থেকে শুরু করে পাঁচ, ছয়, সাত, নয়, দশ ও তেরো নম্বর বার্থের কিছু অংশের কাজ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ পায় চৌষট্টি টাকা। বড় অংশের কাজ করে বেসরকারি এজেন্ট। কোনও চুক্তি ছাড়াই এই কাজ করায় বন্দর সেখান থেকে কোনও লভ্যাংশই পায় না।
দূর্নীতি আর জোরজুলুমের এই ঘটনাই রয়েছে হলদিয়া বন্দরের গণ্ডগোলের পেছনে।