রাজ্যজুড়ে চলছে সিপিআইএমের পার্টি অফিস ভাঙচুর `কর্মসূচি`তৃণমূলের!

Update: January 1, 2013 21:21 IST

২০১৩ বছরের প্রথম দিনটা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বিরুদ্ধে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে হাওড়া, হুগলির বিভিন্ন জায়াগায় সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল।

প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক রাজ্যের কোথায় কোথায় সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয় ভাঙার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে:
১) পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার লোয়াদা পঞ্চায়েত এলাকায়
২) ডেবরার লোয়াদায় পঞ্চায়েতের নন্দবাড়ি গ্রামে
৩) পিংলার খিরিন্দা হাইস্কুলে
৪) পশ্চিম হাওড়ার ব্যাঁটরা এলাকায়
৫) হুগলির উত্তরপাড়া থানার কোতরং এলাকায়

সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার লোয়াদা পঞ্চায়েত এলাকায়। স্কুল নির্বাচন ঘিরে অশান্তির খবর মিলেছে পিংলা থেকেও। সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

রবিবার রাতেই ডেবরার লোয়াদায় সিপিআইএমের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছিল একদল দুষ্কৃতী। একদিন কাটতে না কাটতেই ফের হামলা। এবার লোয়াদা পঞ্চায়েত এলাকারই নন্দবাড়ি গ্রামে। সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, সোমবার রাতে পিকনিক করে ফেরার পথে সিপিআইএমের স্থানীয় কার্যালয়ে চড়াও হয় তৃণমূল কংগ্রেসের একদল কর্মী-সমর্থক।
  
এলাকায় পুলিস পিকেট বসানো হয়েছে। পরপর হামলার জেরে আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা। অশান্তির খবর মিলেছে পিংলা থেকেও। অভিযোগ, খিরিন্দা হাইস্কুলে নির্বাচনে জয়ের পর সোমবার বিজয়মিছিল বের করে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ, মিছিল থেকেই হামলা চালানো হয় কয়েকজন সিপিআইএম কর্মী সমর্থকের বাড়িতে। আতঙ্কে ঘর ছেড়েছে প্রায় কুড়িটি পরিবার। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য দুটি ঘটনাতেই জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পশ্চিম হাওড়ার ব্যাঁটরা এলাকায় সিপিআইএমের লোকাল কমিটির অফিস ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। অফিসের মধ্যে থাকা দুজন স্থানীয় বাসিন্দাকে মারধর করে কয়েক হাজার টাকাও লুঠ করে তারা। গতকাল মধ্যরাতে বাইকে চেপে এসে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। আহত দুজনের নাম উমেশ ভঞ্জ ও রাসবিহারী ভঞ্জ।  উমেশ ভঞ্জ হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিতসাধীন।  হামলায় জড়িত তৃণমূল সমর্থকেরা,  অভিযোগ স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্বের। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।  

হুগলির উত্তরপাড়া থানার কোতরং এলাকায় সিপিআইএমের শাখা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। গতকাল মধ্যরাতে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দুষ্কৃতীরা  সিপিআইএমের দলীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয় বলেও অভিযোগ। আজ সকালে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্ব। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি পোস্টার। পোস্টারে চারজন সিপিআইএম নেতাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় কোন্নগর পুলিস ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরাই এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ সিপিআইএমের। যদিও তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।   
 






Post Your Comment

Total Comments:1

TMC is a black name in the history of Politics. We want its destruction. Left Front will come back again.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।