বন্দরে অচলাবস্থা, মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী

Last Updated: Wednesday, October 10, 2012 - 13:26

বরাত বিতর্ককে কেন্দ্র করে যখন হলদিয়া বন্দরের অচলাবস্থা তুঙ্গে, তখনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গলায় অন্য সুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, হলদিয়া বন্দরের সব কিছুই স্বাভাবিক আছে। অথচ বাস্তব হিসাব বলছে অন্য কথা।
২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হলদিয়া বন্দরের দুটি বার্থ। দুই এবং আট নম্বর বার্থে গত দুবছর ধরে বরাত পেয়েছে পণ্য খালাসকারী সংস্থা এবিজি। এবিজির দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ৯ মিলিয়ন টন পণ্য খালাস করার কথা। অথচ তারা পাচ্ছেন মাত্র ৫ মিলিয়ন টনের। এতে তাদের প্রতিদিন ২ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলেও দাবি। তাই তাদের পক্ষে এখানে কাজ চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাদের অভিযোগের তির তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি`র দিকেও। জোর করে অতিরিক্ত শ্রমিক তাদের নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি জানিয়েছে এবিজি।
ক`দিন আগেই খবর প্রকাশ পায়, কলকাতা বন্দর সূত্রের খবর, চলতি বিবাদের জেরে ২৫ হাজার টন কোকিং কোল-বাহী একটি জাহাজ শেষ পর্যন্ত হলদিয়ায় না-এসে বিশাখাপত্তনমে গিয়ে ভিড়েছে। শ্রম-সমস্যার দ্রুত সমাধান না-হলে আরও অনেক জাহাজ পারাদীপ, বিশাখাপত্তনমের মতো বন্দরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর-কর্তৃপক্ষ। হলদিয়া বন্দরের মোট ১৩টি বার্থের মধ্যে পণ্য খালাসকারী সংস্থা এবিজি-র জন্য বরাদ্দ দুই এবং আট নম্বর বার্থ ছাড়াও আরও অন্তত দু’টি বার্থে জাহাজ ভিড়ছে না। হলদিয়া বন্দরে এবিজি-কে নিয়ে বিবাদ শুরু হওয়ার পরে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে এমন আশঙ্কার কথাই জানিয়েছিলেন কলকাতা বন্দরের চেয়ারম্যান (হলদিয়া বন্দরেরও ভারপ্রাপ্ত) মণীশ জৈন। সমস্যা না-মেটায় তিনি পরে মুখ্যসচিবকেও চিঠি দিয়ে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চান। কিন্তু পরিস্থিতি বদলায়নি।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এক কিছুর পরেও কি করে মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলছেন? অনেকেই বলছেন, মমতা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। বিশেষজ্ঞমহল বলছে, সরকারে আসার পর রাজ্যে শিল্পায়নের করুণ হালের পর হলদিয়া বন্দরের ঘটনায় নতুন করে হাত পোড়াতে রাজি নন মমতা। সঙ্গে যেহেতু বিষয়টির সঙ্গে রাজ্যের শিল্পায়নের ভাবমূর্তি জড়িত তাই মমতা সব কিছু দেখেও চোখ বন্ধ করে আছেন।



First Published: Wednesday, October 10, 2012 - 13:26


comments powered by Disqus