অশান্ত ডুয়ার্স: ১৪৪ ধারা জারি বেশ কিছু অঞ্চলে

Update: April 24, 2012 07:42 IST

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও জন বার্লা গোষ্ঠীর তৈরি যৌথ মঞ্চের ডাকা লাগাতার বনধকে ঘিরেই শেষ পর্যন্ত অশান্ত হল তরাই-ডুয়ার্স। 

ডুয়ার্সের বানারহাট, চামুর্চি, ওদলাবাড়ি, নাগরাকাটা, মালবাজারে ১৪৪ ধারা জারি করল প্রশাসন। আজ রাত পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

মোর্চার বনধ ঘিরে সংঘর্ষের জেরে গতকালই নতুন করে অশান্ত হয়ে ওঠে তরাই-ডুয়ার্স। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বনধ সমর্থক ও বিরোধীরা। পুলিসের লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, শূন্যে গুলির জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ওদলাবাড়ি, বানারহাট এলাকা। দিনভর এই পরিস্থিতির পর রাত আটটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত বনধ শিথিল করে মোর্চা।

সোমবার সকালে প্রথম সংঘর্ষের খবর আসে ওদলাবাড়ি থেকে। ওদলাবাড়ির কাছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে বনধ সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

তরাই-ডুয়ার্সে সংঘর্ষের খবর পৌঁছয় মহাকরণেও। সোমবার দুপুরের আগেই শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যখন শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছেন, ততক্ষণে অশান্তির আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বানারহাটে। ওই এলাকারই রেড ব্যাঙ্ক চা বাগানের কাছে একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় বনধ সমর্থকেরা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি দোকানেও।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমে লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিস। পরে পুলিস শূন্যে দুই রাউন্ড গুলিও ছোঁড়ে।

বিকেলের দিকে উত্তেজনা ছড়ায় চামুর্চি মোড়ে। মোর্চা সমর্থকেরা সেখানে বেশ কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় এসএসবিকে মোতায়েন করা হয়।

জিটিএতে তরাই ডুয়ার্সের মৌজার অন্তর্ভূক্তির প্রশ্নে জটিলতা ক্রমেই বাড়ছিল। অন্তর্ভূক্তির দাবিতে অনড় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা পাশে পেয়েছে আদিবাসী বিকাশ পরিষদের বহিষ্কৃত নেতা জন বার্লাকে। পাল্টা দাবিতেও ক্রমেই চাপ বাড়িয়েছে ডুয়ার্সের ২৬টি গণসংগঠনকে নিয়ে তৈরি জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি। যুযুধান দুই শিবির ঘিরে অশান্তির ভ্রুকুটি ছিলই। শেষপর্যন্ত রাজনৈতিক মহলের সেই  আশঙ্কাকে সত্যি করেই অশান্ত হল তরাই-ডুয়ার্স।

Post Your Comment

Total Comments:1

good chanel

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।