আর্জি খারিজ, রাজ্য সরকারকে ধাক্কা নির্বাচন কমিশনের

Last Updated: Saturday, September 29, 2012 - 18:02

ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ পিছোনো যাবে না। রাজ্য সরকারের আর্জি খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তালিকা সংশোধনের কাজ চালিয়ে যেতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে,  রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত ভোট এগিয়ে আনার পরিকল্পনা ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।  
পয়লা অক্টোবর থেকে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হওয়ার কথা। এর ভিত্তিতে ২রা জানুয়ারি প্রকাশিত হবে নতুন ভোটার তালিকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী বছরের মে মাসে পঞ্চায়েত ভোট। জানুয়ারিতে সেই ভোট এগিয়ে আনতে রাজ্য সরকার ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই আর্জি জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সরকারের এই অবস্থানের প্রতিবাদে সরব হয় কংগ্রেস ও বামেরা। সংশোধিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে। এই দাবিতে শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে তারা। এরপরই, শনিবার, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়ে দেন, কোনও অবস্থাতেই পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বন্ধ রাখা যাবে না। দিল্লি থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এসে পৌঁছয় রাজ্য নির্বাচন কমিশনে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বন্ধ রাখার আর্জি নির্বাচন কমিশন খারিজ করে দেওয়ায় রাজ্য সরকার ধাক্কা খেল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হবে কি হবে না তা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই রাজ্যে সেই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি হয়েছে। শুক্রবারই রাজ্যের যুগ্ম মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিভিন্ন জেলার নির্বাচন আধিকারিকদের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ বন্ধ রাখার জন্য ফোনে নির্দেশ দিয়েছেন। জেলার ভারপ্রাপ্ত অফিসাররা সেই অনুসারে সরকারি ঘোষণা বা মেমো জারি করে সেই কথা রাজনৈতিক দলগুলিকে জানায়। রাজ্য স্তরের এই নির্দেশ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে একমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের। শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, এ রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নিয়ম মেনেই চলবে। প্রশ্ন উঠেছে, তার আগেই কোন অধিকার বলে রাজ্যের যুগ্ম মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এই নির্দেশ দিলেন। শুধু রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই নয়, নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি মহলও রাজ্যের যুগ্ম মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক কর্তৃত্বের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়ে এভাবে হস্তক্ষেপ আদৌ করা যায় কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।



First Published: Saturday, September 29, 2012 - 19:08


comments powered by Disqus