শিশুকে বাঁচাতে অস্থির হয়ে উঠল মা

প্রমাণ সাইজের জলভরা চৌবাচ্চায় পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে শিশুহাতি। অস্থির হয়ে চারাপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে মা। মাঝে মাঝে শুঁড় বাড়িয়ে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা। উদ্ধারে আসছে না হাতির দল। জঙ্গলের কিনারায় ভিড় গ্রামের মানুষের। যদি ক্ষতি হয় বাচ্চাটার?  তাই মাঝে মাঝেই তেড়ে যাওয়া মানুষের দঙ্গলের দিকে। ভোর হতেই এমন দৃশ্য দেখলেন বাঁকুড়ার বড়জোড়া জঙ্গল-লাগোয়া গ্রামের মানুষেরা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঘুমপাড়ানি গুলিতে মা-হাতিকে অবশ করে উদ্ধার করা হয় ক্লান্ত হাতির ছানাকে।

Updated: Apr 26, 2013, 11:23 PM IST

প্রমাণ সাইজের জলভরা চৌবাচ্চায় পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে শিশুহাতি। অস্থির হয়ে চারাপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে মা। মাঝে মাঝে শুঁড় বাড়িয়ে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা। উদ্ধারে আসছে না হাতির দল। জঙ্গলের কিনারায় ভিড় গ্রামের মানুষের। যদি ক্ষতি হয় বাচ্চাটার?  তাই মাঝে মাঝেই তেড়ে যাওয়া মানুষের দঙ্গলের দিকে। ভোর হতেই এমন দৃশ্য দেখলেন বাঁকুড়ার বড়জোড়া জঙ্গল-লাগোয়া গ্রামের মানুষেরা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ঘুমপাড়ানি গুলিতে মা-হাতিকে অবশ করে উদ্ধার করা হয় ক্লান্ত হাতির ছানাকে।
বাঁকুড়ার বড়জোড়ার জঙ্গল। জলে ভর্তি বন দফতরের নার্সারির চৌবাচ্চা। রাতভর ঘোরাঘুরির পর জল খেতে গিয়েই চৌবাচ্চায় পড়ে গেল মায়ের অবাধ্য এক বাচ্চা হাতি। ভোর হতেই হাতির চিত্‍কার। উত্‍সুক এলাকাবাসী গিয়ে দেখেন চৌবাচ্চার জলে পড়ে ছটফট করছে  শিশু হাতি। বাচ্চাকে বাঁচাতে চৌবাচ্চার চারপাশে ছটফট করে বেড়াচ্ছে মা হাতি।
 
বেলা বাড়তে বাড়ল উত্‍সুক জনতার ভিড়। মাঝেই মাঝেই জনতার অত্যাচারে ক্ষিপ্ত মা হাতি তেড়ে আসছিল শুঁড় উঁচিয়ে। এরই মধ্যে বিপত্তি। বেশি কাছে  পৌঁছে গিয়েছিলেন ওই গ্রামেরই   শ্রীকান্ত ঘোষ। ক্ষিপ্ত মা হাতি শুঁড়ে তুলে আছাড় দিয়ে মারে তাঁকে।
 
বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ পৌঁছন পুলিসকর্মীরা। কিন্তু একচুলও জায়গা ছাড়তে রাজি নয় মা। মাঝে মাঝে শুঁড়ে শুঁড় জড়িয়ে বার্তা দিচ্ছিল সন্তানকে, ভয় নেই, আমি আছি। ওদিকে জঙ্গলের একপ্রান্তে তখন মায়েদের ভিড়। বেঁচে যায় যেন বাচ্চাটা, মনে মনে প্রার্থনা মায়েদের। শেষ পর্যন্ত এল বনদফতরের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। ঘুমপাড়ানি গুলিতে আচ্ছন্ন করা হল মা হাতিকে। এরপর চৌবাচ্চার কংক্রিটের দেওয়াল ভেঙে জলের তোড়ে ভাসিয়ে তোলা হল শিশু হাতিকে। গুটি গুটি পায়ে মায়ের কাছে হেঁটে চলে গেল ছানা। স্বস্তি ফিরল বড়জোড়ার জঙ্গলে।