মালদায় ফের কৃষক আত্মঘাতী

Update: March 28, 2012 20:14 IST

ঋণের দায়ে রাজ্যে ফের আত্মঘাতী হলেন এক কৃষক। পরিবারসূত্রে অভিযোগ ঋণ মেটাতে না-পেরে রাতে কীটনাশক খান মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা নির্মল মণ্ডল। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুরে মৃত্যু হয় তাঁর। আত্মীয়দের দাবি ধার করা অর্থ ফেরতের জন্য মহাজনের চাপের পাশাপাশি মজুত ফসল বিক্রি না-করতে পারায় গত কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন নির্মলবাবু।

ধান চাষের জন্য পুঁজি জোগাড় করতে গত বর্ষায় স্থানীয় মহাজনের থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন মালদহের কালিয়াচক থানার বাসিন্দা নির্মল মণ্ডল। এরপর চাষ করা ধান বিক্রি করতে না-পারায় ঋণ শোধ করতে গিয়ে যথেষ্ট বেগতিকে পড়েন লক্ষ্মীপুরোর দুন্মবর বল্কের স্থানীয় এই কৃষক। ধারের টাকা জোগাড় করতে অন্যের জমিতে ক্ষেতমজুরের কাজও শুরু করেন বছর চল্লিশের নির্মলবাবু। তবে এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহ থেকে বকেয়া মেটানোর জন্য পাওনা মেটানোর জন্য চাপ আসে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকেও। সেই চাপ সহ্য করতে না-পেরেই সোমবার রাতে সতন কোনাই কীটনাশক খান বলে তাঁর আত্মীয়দের দাবি। সাঁইথিয়া হাসপাতাল থেকে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয় সতন কোনাইয়ের।

সোমবারই ঋণের দায়ে মুর্শিদাবাদের বড়োয়া থানার ঘুনকিয়া গ্রামে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন হিরণ্ময় ঘোষ নামে এক কৃষক।

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।