আলু চাষের ভরা মরসুম বীজের দ্বিগুন দামে দিশেহারা কৃষকরা

খাবার আলুর পর এবার আলু বীজের সঙ্কট। আলু বসানোর ভরা মরসুমে মাথায় হাত রাজ্যের আলুচাষীদের। গতবছর যে আলুবীজের দাম ছিল বস্তাপিছু ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা, চলতি বছর সেই বীজের দাম দ্বিগুন বেড়ে হয়েছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা। এই সঙ্কটের পিছনে রয়েছে আলুবীজ ব্যবসায়ীদের ফাটকাবাজি। এমনটাই অভিযোগ কৃষকদের।

Updated: Nov 21, 2013, 10:02 AM IST

খাবার আলুর পর এবার আলু বীজের সঙ্কট। আলু বসানোর ভরা মরসুমে মাথায় হাত রাজ্যের আলুচাষীদের। গতবছর যে আলুবীজের দাম ছিল বস্তাপিছু ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা, চলতি বছর সেই  বীজের দাম  দ্বিগুন বেড়ে হয়েছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা। এই সঙ্কটের পিছনে রয়েছে আলুবীজ ব্যবসায়ীদের ফাটকাবাজি। এমনটাই অভিযোগ কৃষকদের। 
বাঁকুড়া জেলায়  প্রায় ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার বিঘে জমিতে আলু চাষ হয়। এর মধ্যে আশি শতাংশ জমিতেই জ্যোতি আলুর চাষ করেন কৃষকরা। এই বিপুল পরিমাণ আলু চাষ করতে প্রতি বছর প্রায় এক লক্ষ মেট্রিক টন আলুবীজ প্রয়োজন হয়। বিগত বছরে নিজের জমিতে উতপাদিত আলুই পরের বছর বীজ হিসাবে ব্যবহার করলেও  খোলা বাজার থেকে আলুবীজ কিনতে হয় কৃষকদের। আর এখানেই বিপত্তি। অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে বীজ ব্যবসায়ীরা পঞ্জাব থেকে আনা আলুবীজ বিক্রি করছেন  প্রায় দ্বিগুন দামে। চাষের খরট বেড়েছে। তার ওপর আবার আলুবীজের চড়া দাম। সবমিলিয়ে রীতিমত সঙ্কটে বাঁকুড়ার আলুচাষীরা।
 
পরিস্থিতি সামলাতে ১৮ টাকা কেজি দরে আলুবীজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষি দফতর। কিন্তু বাঁকুড়া জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র সাড়ে তিনশো মেট্রিক টন আলুবীজ। যা চাহিদার তুলনায় নিতান্তই কম। একই দশা বর্ধমানের আলুচাষীদেরও। জেলার মেমারি, জামালপুর, রায়না, আউশগ্রামে জোরকদমে চলছে আলুবীজ বসানোর কাজ। একদিকে আলুবীজের  লাগামছাড়া দাম  অন্যদিকে রাসায়ানিক সার এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। এই দুয়ের জাঁতাকলে লোকসানের বহর সামলে উঠতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বর্ধমানের আলুচাষীরাও।
 
আলুবীজ বিক্রির সরকারি সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে কিছুটা হলেও স্বস্তি জোগাবে চাষীদের। তবে আলুবীজ ব্যবসায়ীদের  এড়িয়ে সেই সরকারি বীজ চাষিরা কিনতে পারবেন কি না, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।