এবিজি কাণ্ডে আটক প্রতিবাদি শ্রমিকদের জামিন, অস্বস্তিতে রাজ্য

Update: February 11, 2013 22:02 IST

হলদিয়া থেকে এবিজির চলে যাওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করে ধৃত ১৪জন শ্রমিককে আজ নিঃশর্ত জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। গত ১৫ জানুয়ারি কাজ হারানো এই ১৪জন শ্রমিককে গ্রেফতার করে পুলিস। ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হলেও তার  স্বপক্ষে কলকাতা হাইকোর্টে কোনও তথ্য পেশ করতে পারেনি রাজ্যসরকার। ফলে আজ ধৃত ১৪ জনকেই নিঃশর্ত মুক্তি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। 

পনেরোই জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার রাস্তা থেকে বহু দূরে কালো ব্যাচ পরে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন চোদ্দো জন শ্রমিক। এবিজির চলে যাওয়ার বিরুদ্ধেই ছিল তাঁদের প্রতিবাদ। কিন্তু সেখান থেকেই পুলিস চোদ্দো জনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মজুত, এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতির চেষ্টা সমেত নানা জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করে পুলিস। কিন্তু আদালতে সেই সপক্ষে কোনওরকম জোরালো তথ্য প্রমাণ পেশ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সোমবার চোদ্দো জনকেই নিঃশর্ত জামিন দিল আদালত। পূর্ব মেদিনীপুরের কংগ্রেস নেতাদের মতে এই জয় কংগ্রেসেরই নৈতিক জয়।
  
নন্দীগ্রাম থেকেই আন্দোলন শুরু করে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। সেই সময় ভূমি উচ্ছেদ কমিটির ব্যানারে তৃণমূলের সঙ্গেই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন সেখানকার মানুষ। কিন্তু একসময় যে দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন তাঁরা, ক্ষমতায় আসার পর সেই সরকারের পুলিসের হাতেই গ্রেফতার হওয়ায়, সেখানকার মানুষই আজ ক্ষোভে ফুঁসছে। কিছুদিন পরই ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর নন্দীগ্রাম সফর। তার আগে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে সরকারের বিড়ম্বনা বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
 

Post Your Comment

Total Comments:1

MAMATAR SARKAR AR KOTO COUTER THAPPOR KHABE?

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।