আগামিকাল হাওড়া পুরসভার নির্বাচন, কড়া নিরাপত্তা প্রতিটি বুথে, নবান্ন ঘিরে বর্তমান রাজ্য রাজনীতি আবর্তিত হলেও কলকাতার যমজ শহরের আজও ঘুচলো না দুয়োরানির তকমা

Last Updated: Thursday, November 21, 2013 - 15:32

আগামিকাল হাওড়া পুরসভার নির্বাচন। নির্বাচন ঘিরে প্রতিটি বুথেই থাকছে কড়া নিরাপত্তা। বুথ ও ভোটগ্রহণ কেন্দ্র মিলিয়ে পাঁচহাজারেরও বেশি পুলিস মোতায়েন করা হয়েছে গোটা জেলায়। সকাল সাতটা থেকে দুপুর তিনটে পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৮৪০। মোট পোলিং স্টেশন ১০১৪। মোট গ্রহণ কেন্দ্র ৩২১। প্রার্থীর সংখ্যা ৪২৭। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা শাসক ও পুলিস কমিশনারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সেরে গেছেন রাজ্যের মুখ্য মির্বাচন কমিশনার মীরা পাণ্ডে। হাওড়া পুরসভা শুরু থেকেই বামেদের দখলে। বামেদের এই শক্ত ঘাঁটিতে তৃণমূল ভাগ বসাতে পারে সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল।
রূপকথার গল্প নয়। তবু নিন্দুকেরা বলেন দুয়োরানী, সুয়োরানী। গঙ্গার দুপাড়ের দুই শহরের মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ফারাক। এরমধ্যেই নবান্নকে ঘিরে হাওড়ার উন্নয়নের আশা করেছিলেন শহরবাসী। কিন্তু তা বিশ বাঁও জলে। নবান্নে বসেই রাজ্যের উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পাঁচশো বছরের প্রাচীন শহর হাওড়ার ক্ষেত্রে? স্পিকটি নট।
ঝাঁ চকচকে রাস্তাঘাট, উন্নত নিকাশি থেকে বঞ্চিত হাওড়া। আর তাই ৫০০ বছরের তকমা থাকলেও দর্শনে অনেকটাই পিছিয়ে এই শহর। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের অবস্থাও তথৈবচ। শহরবাসীর দাবি, যাবতীয় উন্নয়নের ফোকাস কলকাতার দিকে। হাওড়া বৈমাত্রেয়।
এই টানা-পোড়েনের মধ্যেই খানিকটা হলেও আশার আলো জাগিয়েছিল মহাকরণ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত। চোদ্দতলা এইচআরবিসি ভবনে মহাকরণকে উঠিয়ে নিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম দেওয়া হয় নবান্ন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন শহরের মানুষ। কিন্তু ঘোর কেটেছে কয়েকদিন বাদেই। নবান্নে বসেই রাজ্যের উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ হাওড়ার ক্ষেত্রে তেমন ঘোষণা কই?
বিরোধীদের দাবি, মহাকরণ স্থানান্তর পুরভোটের আগে রাজনৈতিক চমক ছাড়া আর কিছুই নয়।
সমস্যা বিস্তর। সমাধানের পথ নেই। জল-যন্ত্রণা, বেহাল রাস্তাঘাট, যানজটে অভ্যস্ত হাওড়ার মানুষ। অবস্থা পাল্টাতে এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। তাই মহাকরণ স্থানান্তরের পরেও হাওড়া আছে হাওড়াতেই।



First Published: Thursday, November 21, 2013 - 15:27


comments powered by Disqus