বেহাল জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্যপরিষেবা

রাজ্যের মাওবাদী প্রভাবিত তিন জেলায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গলমহলের গ্রামগুলিতে ভ্রাম্যমান চিকিত্সা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখনও অর্ধেকের বেশি গ্রাম সেই পরিষেবার মুখ দেখেনি। রাজ্য সরকারের করানো সমীক্ষাতেই এই তথ্য উঠে এসেছে। তারপরই এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।  

Updated: Jan 16, 2013, 09:59 AM IST

রাজ্যের মাওবাদী প্রভাবিত তিন জেলায় সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গলমহলের গ্রামগুলিতে ভ্রাম্যমান চিকিত্সা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এখনও অর্ধেকের বেশি গ্রাম সেই পরিষেবার মুখ দেখেনি। রাজ্য সরকারের করানো সমীক্ষাতেই এই তথ্য উঠে এসেছে। তারপরই এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।  
দেড় বছরের শাসনকালে রাজ্য সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে প্রায়ই জঙ্গলমহলের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু জঙ্গলমহল নিয়েই সাম্প্রতিক সমীক্ষার একটি রিপোর্ট, সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বর্তমান পরিস্থিতি কী, তা জানতে একটি সমীক্ষা করিয়েছে রাজ্য সরকার। সমীক্ষায় মূলত তিনটি বিষয় দেখা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, এবং পানীয় জল পরিষেবা।
তিন জেলায় পাঁচটি থানার আওতায় ৩৫ টি গ্রামে সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে,
৩৫টি গ্রামের মধ্যে মাত্র ১২টি গ্রামে স্বাস্থ্য দফতরের ভ্রাম্যমান গাড়ি পৌঁছয়। ওই ১২টি গ্রামই পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় থানার অন্তর্গত। কিন্তু বেলপাহাড়ি ও শালবনি থানার আওতাভুক্ত গ্রামগুলিতে ভ্রাম্যমান গাড়ির দেখা মেলে না। ভ্রাম্যমান গাড়ির দেখা মেলে না বাঁকুড়ার বারিকুল এবং পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার গ্রামগুলিতেও।
অথচ ক্ষমতায় আসার পর, জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে নিবিড় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে, পরিবার পিছু দুটাকা কেজি দরে চাল এবং পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুটাকা কেজি দরে চাল জঙ্গলমহলের মানুষ পাচ্ছেন
৩৫টি গ্রামের মধ্যে ২৩টি গ্রামে পানীয় জলের জন্য নলকূপ বসানো হয়েছে।
কিন্তু সবচেয়ে খারাপ জায়গায় দাঁড়িয়ে জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্য। অথচ স্বাস্থ্য দফতরের সর্বোচ্চ দায়িত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। স্বাভাবিক ভাবেই রিপোর্ট সামনে আসার পর তত্পর হয়েছে প্রশাসন। মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র স্বাস্থ্য সচিবকে চিঠি দিয়ে ভ্রাম্যমান চিকিত্সা পরিষেবা অমিলের বিষয়টি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতরের ভ্রাম্যমান পরিষেবা যাতে জঙ্গলমহলের সব মানুষ পান, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব।