যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হোসনি মুবারকের

Update: June 2, 2012 15:35 IST

ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার ঠিক ১৬ মাসের মাথায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন হোসনি মুবারক। ২০১০-১১ সালের তাহরির স্কোয়্যারের গণবিক্ষোভের সময়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণের কয়েকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মিশরের ক্ষমতাচ্যূত একনায়ক। রাজধানী কায়রোর পুলিস অ্যাকাডেমি-স্থিত বিশেষ আদালত যাবজ্জীবন জেলের সাজা শোনানোর সময় এজলাসে তারের জালে ঘেরা একটি জায়গার বিছানায় বসে ছিলেন অসুস্থ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন ৮৪ বছরের মুবারককে সাজা ঘোষণার জন্য হেলিকপ্টারে করে এদিন কায়রোর আদালতে নিয়ে আসা হয়।

মুবারকের পাশাপাশি তাঁর জমানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তামন্ত্রী  হাবিব আল আদলেকেও তাহরির স্কোয়্যার গণবিক্ষোভে সশস্ত্র হামলা চালানোর দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। তবে ৬০,০০০ পাতার নথিপত্র, সাক্ষীদের বয়ান ও আনুষঙ্গিক দস্তাবেজ পরীক্ষার পরও ৩ দশকের একনায়কের দুই ছেলে গামাল ও আলার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিসংশয় হয়ে পারেননি বিচারক আহমেদ রেফাত। তাই তাঁদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। প্রমাণাভাবে মুক্তি পেয়েছেন, মুবারকের আমলের ৬ উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকও। প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে ২০১১-র ফেব্রুয়ারি মাসে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন মুবারক। এর পরি গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। গত ৩ অগাস্ট থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘোরাটোপে থাকা পুলিস অ্যাকাডেমি আদালতে তাঁর বিচার শুরু হয়।





Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।