ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট, রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছে কামদুনি

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন ১৫ দিনে চার্জশিট, একমাসের মধ্যে বিচার করে দোষীদের শাস্তি। কিন্তু, ডেডলাইন পালন করতে পারল না তাঁর পুলিস। কামদুনি কাণ্ডের ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট আদালতে জমা পড়ে ২৫ দিনের মাথায়। আর আজ ঘটনার একমাস পূর্ণ হল। দোষীদের শাস্তি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। সুবিচারের আশায় এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন কামদুনির মানুষ।  

Updated: Jul 7, 2013, 09:32 PM IST

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন ১৫ দিনে চার্জশিট, একমাসের মধ্যে বিচার করে দোষীদের শাস্তি। কিন্তু, ডেডলাইন পালন করতে পারল না তাঁর পুলিস। কামদুনি কাণ্ডের ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিট আদালতে জমা পড়ে ২৫ দিনের মাথায়। আর আজ ঘটনার একমাস পূর্ণ হল। দোষীদের শাস্তি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। সুবিচারের আশায় এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন কামদুনির মানুষ।  
সাতই জুন। কামদুনি গ্রামের বাইরে আটবিঘায় একটি পাঁচিল ঘেরা জমিতে পাওয়া গিয়েছিল গ্রামেরই একমাত্র কলেজপড়ুয়া মেয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ। নিথর দেহে পাশবিক অত্যাচারের চিহ্ন ছিল স্পষ্ট। সেদিন থেকেই নিরাপত্তার দাবিতে শুরু হয় কামদুনির মানুষের প্রতিবাদ। রাজ্য রাজনীতিকে তোলপাড় করে একসময় সেই হাওয়া কড়া নাড়ে মহাকরণের দরজার। তারপর কামদুনি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নানাকাজে ব্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী।
দশদিন বাদে কামদুনি গিয়ে পাঁচমিনিট গ্রামে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দিয়েছিলেন পনেরো দিনে চার্জশিট ও একমাসের মধ্যে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর পুলিস মুখ্যমন্ত্রীর কথা রাখেনি। পনেরোদিনের চার্জশিট আদালতে জমা পড়ে পঁচিশ দিনের মাথায়। এবং তাও ত্রুটিপূর্ণ। চার্জশিটে ছিল না মূল অভিযোগকারীর বয়ান, ছিল না ফরেনসিক রিপোর্ট, ছিল না প্রধান দুই অভিযুক্তের নাম। গণধর্ষণকে, ধর্ষণ প্রমাণ করার একটি চেষ্টাও করা হয় সেই চার্জশিটে। ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিটের জন্য বারাসত আদালতের বিচারকের কড়া ধমকের মুখেও পড়েন হয় তদন্তকারী অফিসারকে। চার্জশিট কাণ্ডের পর একমাসে দোষীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি যে পালন হবে না তা নিয়ে একরকম নিশ্চিত ছিলেন কামদুনির বাসিন্দারা। বাস্তবেও তাই ঘটেছে। রবিবারই পেরিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর একমাসের সময়সীমা।
কামদুনিতে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার পর এক মাস পেরিয়ে গেল। এখনও বিচার পায়নি ওই ছাত্রীর পরিবার। ঘটনার দশদিন পর মুখ্যমন্ত্রী গ্রামে গিয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন এক মাসের মধ্যে দোষীরা শাস্তি পাবে। কিন্তু, সিআইডি-র অসম্পূর্ণ চার্জশিটে বারোই জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে বিচার প্রক্রিয়া। সিআইডি তদন্তের ওপর ভরসা রাখতে না পেরে কামদুনির বাসিন্দারা সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে  প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে সুবিচারের আশায় রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হচ্ছে কামদুনি। এ জন্য, আগামী তেরোই জুলাই গ্রামবাসীদের একটি দল দিল্লি রওনা হচ্ছে। কামদুনিতে কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক মাস পূর্ণ হল আজ। বিচারের দাবিতে আর নিহত ছাত্রীর স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানাতে সন্ধেয় কামদুনিতে মোমবাতি মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে।