কাঁথিতে আক্রান্ত মহিলাকে হুমকি জারি তৃণমূলের

নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পূর্ব মেদিনীপুরের কানাইদিঘি গ্রামের আক্রান্ত মহিলা। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ওই মহিলার। হুমকির ঘটনায় মহিলা ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

Updated: Apr 20, 2012, 08:22 PM IST

নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পূর্ব মেদিনীপুরের কানাইদিঘি গ্রামের আক্রান্ত মহিলা। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ওই মহিলার। হুমকির ঘটনায় মহিলা ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। দলবদলে রাজি না-হওয়ায় গত মঙ্গলবার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ওই মহিলার শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। ২১ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর চারদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিস।    
দলে যোগ না-দেওয়ায় এক মহিলার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের কানাইদিঘি গ্রামের কিছু তৃণমূল সমর্থকের বিরুদ্ধে। এবার সেই আক্রান্ত মহিলাকে থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য ফের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটল। এক্ষেত্রেও কাঠগড়ায় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা।
  
গত মঙ্গলবার সকালে উত্তর কাঁথির কানাইদিঘির বাসিন্দা বছর চল্লিশের ওই মহিলার বাড়িতে ঢুকে একদল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ। এফআইআরে যে ২১ জনের নাম রয়েছে, তারা প্রত্যেকেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক। ঘটনার পর কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও, এখনও একজনকেও গ্রেফতার করেনি পুলিস। অভিযোগ, অভিযুক্তেরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
  
চিকিত্‍সাধীন ওই মহিলাকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যেও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। শুক্রবার হাসপাতালে গিয়ে মহিলার সঙ্গে দেখা করে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা সমিতির এক প্রতিনিধিদল। ছিলেন স্থানীয় বাম নেতৃত্বও। নিরাপত্তার জন্য দুজন মহিলা কনস্টেবল থাকা সত্ত্বেও, কিভাবে হাসপাতালের মধ্যে ঢুকে ওই মহিলাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে পুলিসের জবাব দাবি করেছেন মহিলা সমিতির সদস্যেরা।      
 
দলবদলে রাজি না-হওয়ায় ওই মহিলার পরিবার তৃণমূল কর্মীদের রোষের মুখে পড়ে বলে অভিযোগ। বাম সমর্থক হওয়ায় ৫০ হাজার টাকার আর্থিক জরিমানাও করা হয়, যা দিতে পারেনি ওই দরিদ্র পরিবার। ফলে আক্রমণও উত্তরোত্তর বেড়েছে বলে অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস।  
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। জেলা পুলিসের বদলে সিআইডিকে দিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি করা হয়েছে।