দমকলের অবহেলায় মৃত্যু যুবকের

Update: March 10, 2013 13:05 IST

পুলিস ও দমকলের উপযুক্ত পরিকল্পনা ও পরিকাঠামোর অভাবে আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হল এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের। গতকাল পরিবারের সদস্যদের চোখ এড়িয়ে পুরুলিয়া শহরে আবাসনের ছাদের ওপর চিলেকোঠায় উঠে যায় সে। দীর্ঘ বারো ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করেও তাঁকে নামাতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। পুলিসে খবর দেওয়া হয়। দমকল বাহিনী এসে ওই যুবকের কাছে পৌঁছনর চেষ্টা করে। কিন্তু চিলেকোঠার কার্নিশে চলে যায় ওই যুবক। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টার পরও তাঁকে নামানো সম্ভব হয়নি।

এরপরই জলকামান দিয়ে তাঁকে নামানোর চেষ্টা করে দমকল। এখানেই বিপত্তি ঘটে যায়। জলকামানের তোড়ে চল্লিশ ফুট ওপর থেকে নীচে পড়ে যায় ওই যুবক। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে তাঁকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বোকারো স্থানান্তরিত করার সময় পথেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। পুলিস ও দমকলবাহিনীর পরিকল্পনা ও পরিকাঠামোর অভাবেই ওই যুবকের মৃত্যু হল বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে ছাদ থেকে নামাতে জল ব্যবহার করেছিল দমকল। তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন পুরুলিয়া  দমকল স্টেশনের ওসি। তবে তাঁর দাবি, জল দিয়ে ওই যুবককে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা হয়েছিল। সেই ফাঁকে তাঁর কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেছিলেন দমকল কর্মীরা। কিন্তু তার আগেই ছাদের কার্নিশ থেকে ঝাপ দেয় সে।






Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।