তুলির টানে শুরু ১০ কোটির মাটি উৎসব

রাজ্য সরকারের ভাঁড়ারে যখন টানাটানি, তখন দশ কোটি টাকায় বর্ধমানের পানাগড়ে মাটি উত্সবের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষি দফতর ছাড়াও রাজ্য সরকারের আরও দশটি দফতর মাটি উত্‍সবের দায়িত্বে রয়েছে। উত্‍সবে হাজির সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীও। এদিন সম্মান জানানো হয়  সদ্যপ্রয়াত গৌরখ্যাপার স্ত্রীকে। মুখ্যমন্ত্রী সম্মানিত করেন পূর্ণদাস বাউল, কার্তিক বাউল, প্রতুল মুখোপাধ্যায় সহ বাংলার বিভিন্ন লোকশিল্পীকে। মাটি উত্সব উপলক্ষ্যে দীর্ঘদিন পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একমঞ্চে দেখা গেল মহাশ্বেতা দেবীকে।

Updated: Feb 9, 2013, 12:38 PM IST

রাজ্য সরকারের ভাঁড়ারে যখন টানাটানি, তখন দশ কোটি টাকায় বর্ধমানের পানাগড়ে মাটি উত্সবের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষি দফতর ছাড়াও রাজ্য সরকারের আরও দশটি দফতর মাটি উত্‍সবের দায়িত্বে রয়েছে। উত্‍সবে হাজির সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীও। এদিন সম্মান জানানো হয়  সদ্যপ্রয়াত গৌরখ্যাপার স্ত্রীকে। মুখ্যমন্ত্রী সম্মানিত করেন পূর্ণদাস বাউল, কার্তিক বাউল, প্রতুল মুখোপাধ্যায় সহ বাংলার বিভিন্ন লোকশিল্পীকে। মাটি উত্সব উপলক্ষ্যে দীর্ঘদিন পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একমঞ্চে দেখা গেল মহাশ্বেতা দেবীকে।
দশ কোটি টাকা ব্যয়ে পালিত হচ্ছে মাটি উত্‍সব। অথচ যাদের জন্য এই উত্‍সব তাঁরাই অন্ধকারে। সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটছে একাধিক কৃষক পরিবারের। ক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবি সারের দাম কমাক সরকার। লোকসানের মুখে পাশে দাঁড়াক রাজ্য। আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে এই উত্‍সবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সারের দাম কেন কমছে না, জনসভায় মুখ্যমন্ত্রীকে এই প্রশ্নটা করায় মাওবাদী তকমা নিয়ে জেলে যেতে হয়েছিল বিনপুরের কৃষক, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী শিলাদিত্য চৌধুরীকে। কিন্তু ওই প্রশ্নের জবাবটাই যে চাইছেন রাজ্যের কয়েক হাজার কৃষক। জবাব নেই, তবে উত্সব আছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুর এক ব্লকের বানপুর, কেউটিয়া, তপনপুরের কৃষক মহম্মদ জিন্নাত আলি, মহম্মদ সরিফুল, হুলিবার হুসেন, মহম্মদ আরাফত। ধান চাষ করে পঞ্চাশ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে জিন্নাত আলির। তার উপর বাড়ছে সারের দাম। একই দশা অন্যদেরও।
সমস্যার সমাধান নেই। তবে উত্সব আছে। বর্ধমানের পানাগড়ে সরকারের ১০ কোটি টাকা খরচ করে চলছে মাটি উত্‍সব।