হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউ

Update: November 23, 2012 21:59 IST

টানা তিনদিন সাঁতরাগাছি স্টেশনে রোদে-ঠাণ্ডায় পড়ে রইলেন এক বৃদ্ধা। জোটেনি খাবারও। কেউই বাড়িয়ে দেননি সাহায্যের হাত। দায় এড়িয়েছে রেল এবং পুলিস। শুক্রবার সাংবাদিকদের উদ্যোগে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তাঁকে রেলের হাসপাতালে ভর্তি করে জিআরপি।

দক্ষিণ পূর্ব রেলের সাঁতরাগাছি স্টেশন। গত দু-তিন দিন এই প্ল্যাটফর্মেই পড়েছিলেন সত্তরোর্ধ ওই বৃদ্ধা। নাম রমা সিনহা। বাড়ি অশোকনগরের কল্যানগড়ে। অনাহারে এবং ঠান্ডায় রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। যাওয়া আসার পথে তাঁকে দেখেছেন অনেকেই। কিন্তু এগিয়ে আসেননি কেউই। হাত বাড়িয়ে দেয়নি আরপিএফ কিংবা জিআরপিও। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খবর পেয়েও রেলের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থেকেছে জগাছা থানা।

অবশেষে শুক্রবার কয়েকজন নিত্যযাত্রী ওই বৃদ্ধার খবর জানান সংবাদমাধ্যমকে। পরে সাংবাদিকদের উদ্যোগেই জিআরপি ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে রেলের হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু টানা তিনদিনের এই উদাসীনতা ফের সামনে নিয়ে এল নাগরিক জীবনের অমানবিক মুখ।


 

Post Your Comment

Total Comments:1

2/1 alada ghatona chhara manus ekhon sanghatik udasin...etai sottyi. Onyo ke niye temon keo bhabe na. Puro systen tai taratari palte jachchhe. Abar kichhu joner help korar ichchhe thakleo tara ta koren na, natun kono jhamelate tara porte paren eta bhebe.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।