এবার জমি-জটে এসার এনার্জি, ওএনজিসি

Update: August 8, 2012 20:42 IST

লারসন অ্যান্ড টুব্রো, এনটিপিসি`র পর এবার রাজ্যে জমি সমস্যার জেরে অনিশ্চয়তায় এসার এনার্জি এবং ওএনজিসির প্রকল্প। দুগার্পুর-আসানসোল অঞ্চলে এসার এনার্জির ৩০০০ কোটি টাকার মিথেন গ্যাস প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। একই কারণে বাধার মুখে বর্ধমানে ওএনজিসির প্রকল্পও। রাজ্য সরকারের জমি নীতির ফলে একের পর এক শিল্প যেভাবে বাধার মুখে পড়ছে, তাতে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের জমিনীতি ইতিমধ্যেই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে শিল্পমহলের একাংশে। সরকারের ঘোষণা শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। ইতিমধ্যেই লারসন অ্যান্ড টুব্রো জানিয়ে দিয়েছে জমির অভাবে রাজ্যে তাদের ১২০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বিদ্যু‍‍‌‍‌‌‌ত্‍ উত্‍পাদন কেন্দ্র গড়া সম্ভব হচ্ছে না। সরাসরি জমি কিনতে গিয়ে এনটিপিসি-ও তাদের কাটোয়া প্রকল্পের জন্য এখনও এক চিলতে জমি পায়নি। জমি নিয়ে এবার বর্ধমান জেলাতেই সমস্যার মুখে এসার এনার্জি।

দুর্গাপুর-আসানসোল অঞ্চলে মিথেন গ্যাস প্রকল্পের জন্য তাদের ৩০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫০০টি কুয়ো খোঁড়ার কথা তাদের। ২০০৭-এ শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ইতিমধ্যে ৮০টি কুয়ো খোঁড়া হয়ে গেছে। সংস্থার হাতে যা জমি আছে, তাতে আর ৭৫টি কুয়ো খোঁড়া সম্ভব। কিন্তু প্রকল্প সম্পূর্ণ করার ক্ষেত্রে বাধা  হয়ে দাঁড়িয়েছে জমির সমস্যা। জমি সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে তাই নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে গ্যাস উত্তোলনের কুয়ো খোঁড়ার কথা ভাবছে এসার গোষ্ঠী। কিন্তু এর ফলে প্রকল্পের খরচ বেড়ে যাবে অনেকটাই।

একই সমস্যা ওএনজিসি-রও। বর্ধমান জেলাতেই গ্যাস উত্তোলনের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চালু করেছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা। কিন্তু জমি সমস্যার মুখে তারাও। জমি সমস্যার জেরে একের পর এক প্রকল্প যেভাবে বাধার মুখে পড়ছে, তাতে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশকে ঘিরে সংশয় ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

Post Your Comment

Total Comments:1

Whether Bengal gets Industry or not we should be happy as we have made our DIdi the CM of Bengal.

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।