পরিসংখ্যানে ম্লান তৃণমূলের পঞ্চায়েতের বিজয় রথ

Last Updated: Thursday, August 1, 2013 - 21:49

পঞ্চায়েত ভোটে ১৭টির মধ্যে ১৩টি জেলা পরিষদের দখল নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের ছোট বড় সব নেতাই এই জয়ে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু  পরিসংখ্যান নিয়ে কাটাছেঁড়া করলে সেই উচ্ছাস কিছুটা ম্লান হতে পারে।
দুহাজার আটের পঞ্চায়েত ভোটের তিন বছরের মধ্যেই রাজ্যের ক্ষমতা থেকে সরে যায় বামফ্রন্ট। রাজ্যের ক্ষমতায় আসার আড়াই বছরের মধ্যেই ২০১৩-এর পঞ্চায়েত ভোটের মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
২০০৮-এর ভোটের সময় সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম-সহ একের পর ইস্যুতে নাস্তানুবাদ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার। তার ছাপ পড়ল দুহাজার আটের পঞ্চায়েত ভোটে। ওই ভোট থেকেই রাজ্যে বামেদের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামা শুরু। সেই ধসের সময়ও ১৩টি জেলা পরিষদে জিতেছিল বামেরা। 
 
রাজ্যের ক্ষমতায় আসার আড়াই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পঞ্চায়েত ভোটের মুখোমুখি হয়ে শাসক তৃণমূলও পেল সেই ১৩টি জেলা পরিষদ। 
দুহাজার আটে শাসক হিসাবে দুঃসময়ে বামেরা ত্রিস্তরের প্রায় ৬৯% আসনে জিতেছিল। ২০১৩-এর শাসক হিসাবে সুসময়ে তৃমমূল কংগ্রেস জিতল প্রায় ৬২%।
 
২০০৮-এ বিরোধী দল হিসাবে সুসময়ে তৃণমূল কংগ্রেস জেলা পরিষদের ১৬% আসনে জিতেছিল।
উল্টোদিকে ২০১৩-এ বিরোধী হিসেবে কার্যত ছত্রভঙ্গ বামেরা জেলা পরিষদের প্রায় ২৫% আসনে জিতল 
 
২০০৮-এ পঞ্চায়েত সমিতির প্রায় ২৬% আসনে জেতে বিরোধী তৃণমূল। ২০১৩-এ বিরোধী বামেরা পেয়েছে পঞ্চায়েত সমিতির ২০% আসন। 
 
গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের ছবিটা আবার উল্টো, জেলা পরিষদের মতোই।  
 
সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের হাত ধরে সুসময়ে ২০০৮-এ পঞ্চায়েত ভোটের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সুসময়েও তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ২৩% আসন পেয়েছিল।
 
২০১৩-এ পঞ্চায়েত ভোটের সময় অনেকটাই অগোছালো বিরোধী বামেরা। সরকার বিরোধী তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য আন্দোলনও নেই। তবু ২০১৩-এ ভোটে গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১% আসনে জিতল বামেরা। 
 
২০১১-এর বিধানসভা ভোটের সঙ্গে ২০১৩-এ পঞ্চায়েত ভোটের তুলনায় কোন রাজনৈতিক দল কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তার সম্পূর্ণ তথ্য পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে দুহাজার এগারোয় গ্রামবাংলায় সবুজের যে তুফান উঠেছিল, তা কিছুটা স্তিমিত। এবারের পঞ্চায়েত ভোটের প্রাথমিক তথ্য তেমন ইঙ্গিতই দিচ্ছে।



First Published: Thursday, August 1, 2013 - 21:49


comments powered by Disqus