পাট্টা দেওয়া জমিতেই ফের পাট্টা বিলি প্রশাসনের

Update: January 22, 2013 11:32 IST

দীর্ঘদিন ধরে পাট্টা দেওয়া জমিকে ফের পাট্টা দিল জেলা প্রশাসন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে একুশ একর জমির পাট্টা বিলি করেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তবে ওই জমিতে দীর্ঘদিন আগেই পাট্টা পেয়েছেন কয়েকজন কৃষক। এখন তাঁদের সেই জমিই দখল করে নিয়েছেন নতুন পাট্টা প্রাপকরা। প্রশাসনের এই ভূলের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন খোদ জেলাশাসকও।

মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের অন্যতম অংশই হল ভূমিহীনদের হাতে জমির পাট্টা তুলে দেওয়া। বিভিন্ন জেলায় একাধিক সভায় ভূমিহীনদের হাতে পাট্টা তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছর একত্রিশে অগাস্টও দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই ৪১ জন ভূমিহীনের হাতে জমির পাট্টা তুলে দিয়েছিলেন তিনি। গঙ্গারামপুর ও বংশীহারী থানার রাধানগর ও জয়দেবপুর মৌজার একুশ একর জমির পাট্টা বিলি হয়েছিল। পাট্টা নিয়ে জমির দখল নিতে যান ভূমিহীনরা। আর তখনই প্রকাশ্যে আসে আসল ঘটনা। দেখা যায় ওই ২১ একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষ করে আসছেন কয়েকজন কৃষক। তাঁদের কাছে পূর্ববর্তী পাট্টার বৈধ কাগজপত্রও রয়েছে। কীভাবে এই জমি ফের পাট্টা দেওয়া হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা।

জেলাশাসক থেকে জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর। সব জায়গাতেই একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছেন কৃষকরা। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজও শুরু করেছেন নতুন করে পাট্টা পাওয়া ভূমিহীনেরা। ওই জমি নিয়ে একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক। জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিবাদ মেটাতে ডাইরেক্টরেট অব ল্যান্ড সার্ভের সঙ্গে যোগাযোগ করছে জেলা প্রশাসন।

আর এখানেই প্রশ্ন। যখন মামলাই রয়েছে। তখন জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট না হয়ে, কেন সেই জমিতে ফের পাট্টা বিলি হল?

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।