প্রোমোটাররাজে উত্তপ্ত ট্যাংরা, অভিযোগ তৃণমূলের দিকে

Update: November 27, 2012 17:00 IST

তোলাবাজিতে যুক্ত তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী সবই জানেন। সোমবার কৃষি দফতর হারানো মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের কাঠগড়ায় তৃণমূল। এবার অভিযোগ প্রোমোটাররাজকে মদত যোগানোর। তিনতলা বাড়ির দখলদারি নিয়ে দুই প্রমোটারের রেষারেষির জেরে আজ উত্তাল হয়ে ওঠে ট্যাংরা এলাকা। অভিযুক্ত দুই প্রমোটারই তৃণমূলের মদতপুষ্ট বলে দাবি এলাকার বাসিন্দারদের।

ন`নম্বর মেহের আলি লেনের একটি পুরোনো তিনতলা বাড়ি ভেঙে তৈরি হবে বহুতল। এই কাজের বরাত কারা পাবে তা নিয়ে গত শুক্রবার থেকেই দুই প্রোমোটিং গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, একটি গোষ্ঠী স্থানীয় তৃণমূল পুরপিতা জীবন সাহা এবং অপর গোষ্ঠী বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পালের মদতপুষ্ট। মহরমের দিন বড় আকার নেয় সংঘর্ষ।  প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রোমোটার ও সমাজবিরোধীদের দাপাদাপিতে বিঘ্নিত হচ্ছে এলাকার শান্তি।

সোমবার রাতে থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করতে যান তাঁরা। পুলিস অভিযোগ না নিয়েই ফিরিয়ে দেয় তাঁদের। কেন থানায় গিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা? প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকাবাসীর ওপর চড়াও হয় বিবদমান দুই প্রোমোটিং গোষ্ঠী। তিনতলা বাড়ি থেকে লাগোয়া ছ`নম্বর বস্তিতে শুরু হয় ইঁট-বৃষ্টি। প্রায় শ`দুয়েক সমাজ বিরোধী বস্তিতে ঢুকে নির্বিচারে পেটাতে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বাদ যাননি মহিলারাও। এরপর মদের বোতল এবং হকি স্টিক দিয়ে এলাকার বেশ কিছু বাড়ি, গাড়ি ও মোটর বাইকও ভাঙচুর করা হয়। আহত হন ২০ জন। পুলিস কিন্তু নীরব দর্শকের ভূমিকাতেই ছিল বলে অভিযোগ।

ট্যাংরা-তপসিয়া শিল্পাঞ্চচলে জমির দখল ও প্রোমোটিং নিয়ে সমাজবিরোধী দৌরাত্ম্য নতুন নয়। এই দৌরাত্ম্য বাড়তি মাত্রা পেয়েছে শাসকদলের দুই নেতার জড়িয়ে পড়ায়। অভিযোগ, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং তোলাবাজির মাশুল গুনছেন সাধারণ, নিরাপরাধ খেটে খাওয়া মানুষ।

Post Your Comment

Total Comments:1

EI GHOTONAR JONYO MR.BOBBY HAKIM BA MR. MADAN MITRA BA MR.SULTAN AHAMED JE BIBRITI DEBAN TAR BAYAN :- ``TANGRAI TRINOMULER KONO GANDOGOL HOINI, AMADER KACHE KHABOR AACHE O SOB CPMER DOLIO KONDOL, DALAL TV CHANEL KE DIYA CPM APOPROCHA KORACHHE, MAMATA BANERJEER NETRITTE BANGLAR UNNOYON KE BADHA DEBAR CHESTA KORCHE.``

blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।