জেলায় জেলায় কবিপ্রণাম

Update: May 8, 2012 17:36 IST

সারা দেশের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও সাড়ম্বরে পালিত হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের সার্ধশতবর্ষ। বৈতালিক ও প্রভাতফেরীর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিশ্বভারতীতে রবীন্দ্রজয়ন্তী। সারাদিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল শান্তিনিকেতনে। নাচ, গান, কবিতা, পথ নাটিকা সহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সাড়ম্বরে পালিত হয় ২৫শে বৈশাখ।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় বৈতালিকের মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী উতসব শুরু হয় শান্তিনিকেতনে। প্রভাতফেরী করে বিশ্বভারতী প্রাঙ্গন পরিদর্শনের পর কাঁচঘরে শুরু হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রসঙ্গীত, প্রার্থনাসহ চলে কবিগুরুকে স্মরণ। উত্তরায়নের শ্যামলীতে রবীন্দ্রনাথের ৪টি নতুন বই প্রকাশ করা হয় বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে। সাড়ম্বরে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয় ঝাড়গ্রামেও। জেলার সুপারের নির্দেশে ঝাড়গ্রাম মহকুমার বিভিন্ন থানায় পালিত হয় রবীন্দ্রজয়ন্তী। মাওবাদী সন্ত্রাসকে দূরে সরিয়ে রেখে একদিনের জন্য হলেও অন্য জঙ্গলমহলকে দেখলেন স্থানীয় মানুষ। অনুষ্ঠান সবাইকে শেষে মিষ্টিমুখও করানো হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন, বারুইপুর, সোনারপুর, জয়নগর, ক্যানিংসহ সর্বত্রই সকাল থেকে কবিগুরুর প্রতিকৃত নিয়ে পরিক্রমা শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২৫ বৈশাখ উপলক্ষ্যে বালির দুর্গাপুর বিজয় সঙ্ঘ ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয় প্রভাত ফেরী।  নাচ, গান, আবৃত্তি ও পথ নাটকে সামিল হন স্থানীয় মানুষ। এলাকার মানুষকে রাখী পরান অনুষ্ঠানের আয়োজকরা। উত্তরদিনাজপুরে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে এলাকার মানুষের সঙ্গে প্রভাতফেরীতে অংশ নেন জেলাশাসকসহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরফে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হয় বাঁকুড়া শহরেও।

পাশাপাশি নদিয়ায় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে পালিত হয় রবীন্দ্রজয়ন্তী। ত্রিপুরাতেও জাঁকজমক ভাবেই পালিত হয়েছে কবিগুরুর জন্মের সার্ধশতবর্ষ অনুষ্ঠান। আগরতলায় নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকাসহ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

Post Your Comment

Total Comments:0
blog-img আজ যদি চেতনার মাঝে পড়ে আছে লাশ... বহুদিন আগের লেখা একটি লাইন আবারও ধাক্কা মেরে গেল। একটু অন্য পরিসরে। নিউ গড়িয়ার, ঢালুয়া গমকল মোড় আমাদের সবাইকে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সামনে অসংখ্য প্রশ্নমালা। ডাইনে মোরাম বিছানো হতবাক্ সরুগলি। সুদীপ্তর বাড়ির রাস্তা। রাস্তার শেষপ্রান্তে সুদীপ্তদের বাড়ি 'সরগম'। সেখানে প্রায় প্রলাপের মত জেগে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। অভ্যাস, অস্বস্তি আর হাপড় টেনে বেঁচে থাকতে চেয়ে বেহালায় ছর টানছেন। স্বরলিপি লেখা কাগজগুলো মাঝে মধ্যেই এলোমেলো হয়ে পড়ছে। যেভাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের পর থেকে সবটাই যেন কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে এই চৌষট্টি বছরের অশক্ত মানুষটির। প্রলাপ। একমাত্র প্রলাপ বলাটাই প্রণব কুমার গুপ্তের সঙ্গে এখন মানায়। সদ্যপ্রয়াত ছেলের কথা বলতে বলতেই বলছেন, "ভায়োলিনটাই এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছি, আচ্ছা কী মনে হয় বলুন তো, আবার বাজাতে পারবো তো?" প্রলাপের মত বলে চলা, জলজ্যান্ত প্রলাপের মতই তিনতলা বাড়িটার ওপর নিচ হাতড়ে বেড়ানো। এই সিঁড়িগুলোর বাঁকে যদি একবার দেখা হয়ে যায় তার তেইশ বছরের হারিয়ে যাওয়া ছেলেটার সঙ্গে। তাইতো কথা বলতে বলতেই হঠাত্‍ বলে উঠছেন, "একটু দাঁড়ান আসছি।" আলো আঁধারিতে সিঁড়ি ভাঙছেন সুদীপ্ত গুপ্তর বাবা। যেভাবে জীবনর এতগুলো সিঁড়িগুলো পেরিয়ে এসে হঠাত্‍ই যেন ওঁর মনে হচ্ছে সব সিঁড়িই কেমন যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেছে। বেহালার কাছে ফিরতে চাইছেন প্রণববাবু। পালিয়ে যেতে চাইছেন। পালিয়ে যাওয়ার যে কোনও সিঁড়ি নেই সামনে।